ফুটপাত উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের অভিযান চলার সময় বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের সীমানার ভেতরে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) ঢোকানোর কারণে আগুন লেগে দোকান পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার দোকানি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। তাঁর প্রশ্ন, এই ক্ষয়ক্ষতির দায় কে নেবে।
শরিফুল ইসলামের দাবি, ফুটপাতের অংশ ভাঙতে এসে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা মসজিদের নির্মাণাধীন মিনারের অংশের ভেতরে ভেকু দিয়ে টান দেন। সেখানে বৈদ্যুতিক লাইন থাকায় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়।
শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, এটা মসজিদের কাজের জায়গা। এখানে হাত দেবেন না। তারপরও তাঁরা ভেতরে এসে হস্তক্ষেপ করেছেন। এতে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’
তিনি জানান, সেখানে মোট পাঁচটি দোকান ছিল। তাঁর দোকানসহ অন্য দোকানগুলোতে নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা এবং স্বর্ণালংকার রাখা ছিল। এসব দোকানের আয় দিয়েই তাঁদের সংসার চলত।
শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, অভিযান চলার সময় তিনি দোকানের ভেতরে ছিলেন এবং সিটি করপোরেশনের লোকজনকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ভেতরে ভেকু চালালে বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা তৈরি হয় এবং আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষয়ক্ষতির দায় কার—এমন প্রশ্ন তুলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আজ একজন এসে বলবে দেখছি, কাল আরেকজন কর্মকর্তা এসে বলবে দেখছি। কিন্তু আমাদের এই ক্ষতির দায় কে নেবে? এ দোকানই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস। আয় বন্ধ করে দিয়ে গেলে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা কে করবে।’
আজ বুধবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং ব্যবসায়ীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক 


















