ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা

blank

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে এক বৃদ্ধার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করেছিল তার পরিবার। কিন্তু ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি সরু ফাঁকা জায়গা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাকে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নুওয়াকোট জেলার বেত্রাওয়াতি গ্রামের বাসিন্দা চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। পরে তাকে সেনাবাহিনীর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে চারতলা বাড়িটি ভেসে গিয়ে কাদামাটির মধ্যে আটকে যায়। ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধারকারীরা হঠাৎ ভেতর থেকে ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পান।

এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপের ভেতরের একটি সংকীর্ণ জায়গায় চণ্ডিকা কুমারীর সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। পানি ও কাদায় ঘেরা ওই ছোট ফাঁকা জায়গায় সামান্য বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় তিনি এতদিন বেঁচে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা দারনাল জানান, তিনি চণ্ডিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরিবার তার মৃত্যুর আশঙ্কায় ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করেছিল।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি বেত্রাওয়াতি। সেখানে বহু আবাসিক ভবন, বাজার ও অন্যান্য স্থাপনা কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

এদিকে, গত শুক্রবার থেকে ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন সুড়ঙ্গ থেকে অন্তত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর কাছে একজন চীনা নাগরিকও রয়েছেন। ওই এলাকায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ জীবিত থাকতে পারেন—এমন আশায় উদ্ধারকারীরা তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন। চণ্ডিকা কুমারীর মতো জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এর আগে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা

প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে
blank

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে এক বৃদ্ধার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করেছিল তার পরিবার। কিন্তু ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি সরু ফাঁকা জায়গা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাকে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নুওয়াকোট জেলার বেত্রাওয়াতি গ্রামের বাসিন্দা চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। পরে তাকে সেনাবাহিনীর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে চারতলা বাড়িটি ভেসে গিয়ে কাদামাটির মধ্যে আটকে যায়। ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধারকারীরা হঠাৎ ভেতর থেকে ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পান।

এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপের ভেতরের একটি সংকীর্ণ জায়গায় চণ্ডিকা কুমারীর সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। পানি ও কাদায় ঘেরা ওই ছোট ফাঁকা জায়গায় সামান্য বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় তিনি এতদিন বেঁচে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা দারনাল জানান, তিনি চণ্ডিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরিবার তার মৃত্যুর আশঙ্কায় ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করেছিল।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি বেত্রাওয়াতি। সেখানে বহু আবাসিক ভবন, বাজার ও অন্যান্য স্থাপনা কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

এদিকে, গত শুক্রবার থেকে ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন সুড়ঙ্গ থেকে অন্তত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর কাছে একজন চীনা নাগরিকও রয়েছেন। ওই এলাকায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ জীবিত থাকতে পারেন—এমন আশায় উদ্ধারকারীরা তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন। চণ্ডিকা কুমারীর মতো জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এর আগে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।