ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মাস ধরে নাতনির খোঁজে ৭১ বছরের নানা ইসমাইল শেখ, আমার রিথিরে বুকে ফিরায়া দেন

blank

‘আমার নাতির খবর লইয়া আইছেন?’—নিজের বাড়ির দিকে আসা অপরিচিত কাউকে দেখলেই এমন প্রশ্ন করেন ৭১ বছর বয়সী ইসমাইল শেখ। উত্তর ‘না’ শুনলেই তাঁর মুখ মলিন হয়ে যায়। চোখ নামিয়ে ধীরপায়ে উঠানে বসে পড়েন তিনি। এরপর শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন দূরের দিকে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে নাতনি রিথি আক্তারের ছবি হাতে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন ইসমাইল শেখ। কখনো গ্রামের এ প্রান্তে, কখনো অন্য এলাকায়। আত্মীয়ের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন—রিথির সন্ধান মিলতে পারে এমন সম্ভাব্য সব জায়গাতেই ছুটছেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েও নাতনিকে খুঁজে চলেছেন। তাঁর একটাই আকুতি, ‘আমার রিথিরে আমার বুকের মাইদ্দে ফিরায়া দেন।’

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের লাকচতল ভিটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল শেখ। গত ২৯ আগস্ট বিকেলে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ১০ বছর বয়সী রিথি আক্তার। এরপর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

blank

 

রিথি লাকচতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শাহাদাত হোসেন ও মা জোনাকি আক্তার। প্রায় নয় বছর আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে জোনাকি আক্তার আবার বিয়ে করে নতুন সংসারে চলে যান। এরপর থেকেই রিথি ও তার বড় বোন ১৩ বছর বয়সী স্মৃতি আক্তার নানার বাড়িতে থাকছে। নানার অভাবের সংসারেই বেড়ে উঠছিল দুই বোন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৯ আগস্ট দুপুরে রিথির নানি নুরজাহান বাড়ির হাঁসের বাচ্চা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে তিনি রিথির সঙ্গে কিছুটা রাগ করে কথা বলেন। পরে রিথি পাশের বাড়ির সমবয়সী এক শিশুর কাছে নিজের অভিমানের কথা জানিয়েছিল। বিকেলে হঠাৎ বাড়িতে রিথিকে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজ শুরু করেন।

রিথির নানার বাড়িতে গিয়ে নানি নুরজাহান ঘরের ভেতর থেকে তার স্কুলব্যাগ নিয়ে আসেন। ব্যাগ থেকে বই-খাতা বের করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘খালি মনে হয়, অক্কন যদি আয়া পড়তো, তে তো ভালা অইতো। আপনেরা যে আইতাছুইন, হে (রিথি) যাদি এরুমবা (এভাবে) আয়া পড়তো। অহন তো আয়ে না।’

 

 

 

রিথিকে খুঁজে না পেয়ে তার মামাতো বোন আফরিন আক্তার শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আফরিন আক্তার বলেন, ‘আমরা সবাই যে যেখানে পারছি, খুঁজে যাচ্ছি।’

জিডির পর পুলিশ শিশুটির সন্ধানে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিকভাবেও শিশুটির খোঁজ করা প্রয়োজন।

blank

পুলিশ পাহারায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে শত শত ইসরাইলি

এক মাস ধরে নাতনির খোঁজে ৭১ বছরের নানা ইসমাইল শেখ, আমার রিথিরে বুকে ফিরায়া দেন

প্রকাশের সময় : ৫৮ মিনিট আগে
blank

‘আমার নাতির খবর লইয়া আইছেন?’—নিজের বাড়ির দিকে আসা অপরিচিত কাউকে দেখলেই এমন প্রশ্ন করেন ৭১ বছর বয়সী ইসমাইল শেখ। উত্তর ‘না’ শুনলেই তাঁর মুখ মলিন হয়ে যায়। চোখ নামিয়ে ধীরপায়ে উঠানে বসে পড়েন তিনি। এরপর শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন দূরের দিকে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে নাতনি রিথি আক্তারের ছবি হাতে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন ইসমাইল শেখ। কখনো গ্রামের এ প্রান্তে, কখনো অন্য এলাকায়। আত্মীয়ের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন—রিথির সন্ধান মিলতে পারে এমন সম্ভাব্য সব জায়গাতেই ছুটছেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েও নাতনিকে খুঁজে চলেছেন। তাঁর একটাই আকুতি, ‘আমার রিথিরে আমার বুকের মাইদ্দে ফিরায়া দেন।’

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের লাকচতল ভিটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল শেখ। গত ২৯ আগস্ট বিকেলে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ১০ বছর বয়সী রিথি আক্তার। এরপর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

blank

 

রিথি লাকচতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শাহাদাত হোসেন ও মা জোনাকি আক্তার। প্রায় নয় বছর আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে জোনাকি আক্তার আবার বিয়ে করে নতুন সংসারে চলে যান। এরপর থেকেই রিথি ও তার বড় বোন ১৩ বছর বয়সী স্মৃতি আক্তার নানার বাড়িতে থাকছে। নানার অভাবের সংসারেই বেড়ে উঠছিল দুই বোন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৯ আগস্ট দুপুরে রিথির নানি নুরজাহান বাড়ির হাঁসের বাচ্চা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে তিনি রিথির সঙ্গে কিছুটা রাগ করে কথা বলেন। পরে রিথি পাশের বাড়ির সমবয়সী এক শিশুর কাছে নিজের অভিমানের কথা জানিয়েছিল। বিকেলে হঠাৎ বাড়িতে রিথিকে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজ শুরু করেন।

রিথির নানার বাড়িতে গিয়ে নানি নুরজাহান ঘরের ভেতর থেকে তার স্কুলব্যাগ নিয়ে আসেন। ব্যাগ থেকে বই-খাতা বের করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘খালি মনে হয়, অক্কন যদি আয়া পড়তো, তে তো ভালা অইতো। আপনেরা যে আইতাছুইন, হে (রিথি) যাদি এরুমবা (এভাবে) আয়া পড়তো। অহন তো আয়ে না।’

 

 

 

রিথিকে খুঁজে না পেয়ে তার মামাতো বোন আফরিন আক্তার শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আফরিন আক্তার বলেন, ‘আমরা সবাই যে যেখানে পারছি, খুঁজে যাচ্ছি।’

জিডির পর পুলিশ শিশুটির সন্ধানে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিকভাবেও শিশুটির খোঁজ করা প্রয়োজন।