ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, ৪৪০ জন আটক, প্রভাব ৪০০ স্কুলে

blank

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আরও ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে এদিন ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানা গেছে। বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে ৪০০টির বেশি স্কুলে।

প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকায় শুরু হওয়া এই আন্দোলনে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৪০০টির বেশি স্কুলে বিক্ষোভ বা এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি স্কুলে প্রবেশপথ অবরোধ করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া, বাসস্টপ ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেন, তারা কোনো কারণ ছাড়াই ভাঙচুর করতে আন্দোলনে নামেনি। তাদের মূল দাবি শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো তুলে ধরা। তার ভাষ্য, তাদের শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী থাকায় শিক্ষকরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছেন।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, পুলিশের পদক্ষেপ ছিল সংযত ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। তবে সরকার পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিলে তা দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে বলে সতর্ক করেছিলেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি মঙ্গলবার দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। বেতন, কর্মপরিবেশ ও সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ থেকে তারা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ জানিয়েছেন, সরকারি কর্মীদের কর্মসূচিতে প্রায় ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় কর্মসূচি বড় ধরনের কোনো ঘটনার ছাড়াই শেষ হয়েছে।

blank

এক মাস ধরে নাতনির খোঁজে ৭১ বছরের নানা ইসমাইল শেখ, আমার রিথিরে বুকে ফিরায়া দেন

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, ৪৪০ জন আটক, প্রভাব ৪০০ স্কুলে

প্রকাশের সময় : ৪৩ মিনিট আগে
blank

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আরও ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে এদিন ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানা গেছে। বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে ৪০০টির বেশি স্কুলে।

প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকায় শুরু হওয়া এই আন্দোলনে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৪০০টির বেশি স্কুলে বিক্ষোভ বা এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি স্কুলে প্রবেশপথ অবরোধ করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া, বাসস্টপ ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেন, তারা কোনো কারণ ছাড়াই ভাঙচুর করতে আন্দোলনে নামেনি। তাদের মূল দাবি শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো তুলে ধরা। তার ভাষ্য, তাদের শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী থাকায় শিক্ষকরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছেন।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, পুলিশের পদক্ষেপ ছিল সংযত ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। তবে সরকার পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিলে তা দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে বলে সতর্ক করেছিলেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি মঙ্গলবার দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। বেতন, কর্মপরিবেশ ও সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ থেকে তারা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ জানিয়েছেন, সরকারি কর্মীদের কর্মসূচিতে প্রায় ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় কর্মসূচি বড় ধরনের কোনো ঘটনার ছাড়াই শেষ হয়েছে।