ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • 113
blank

 জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের প্রেক্ষাপট ও বিচারিক প্রক্রিয়া

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় রায় পড়া শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নিরস্ত্র ও দুই হাত প্রসারিত অবস্থায় থাকা একজন শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ ছিল চরম নৃশংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের পর ২৭ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিচারিক প্রক্রিয়া গত ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে শেষ হয়।

আসামিদের অবস্থান

এই মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ৬ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন  সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল,সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এএসআই আমির হোসেন,  কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ

পলাতক ২৪ আসামি

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়  সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, আসাদুজ্জামান মন্ডল এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে  আরপিএমপির সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী প্রমুখ। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমানসহ শীর্ষ পর্যায়ের ৮ নেতা পলাতক আছে।

ইতিহাসের বাঁক বদলকারী সেই ১৬ জুলাই

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাঈদ বুক পেতে বীরত্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে পুলিশ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসনের পতনের আন্দোলনে চূড়ান্ত গতিবেগ সঞ্চার করে।

জনপ্রিয় খবর
blank

একটি ইলেকট্রিক্যাল হুইলচেয়ারের অভাবে থমকে যাচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থী শাকিলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
blank

 জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের প্রেক্ষাপট ও বিচারিক প্রক্রিয়া

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় রায় পড়া শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নিরস্ত্র ও দুই হাত প্রসারিত অবস্থায় থাকা একজন শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ ছিল চরম নৃশংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের পর ২৭ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিচারিক প্রক্রিয়া গত ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে শেষ হয়।

আসামিদের অবস্থান

এই মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ৬ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন  সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল,সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এএসআই আমির হোসেন,  কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ

পলাতক ২৪ আসামি

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়  সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, আসাদুজ্জামান মন্ডল এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে  আরপিএমপির সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী প্রমুখ। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমানসহ শীর্ষ পর্যায়ের ৮ নেতা পলাতক আছে।

ইতিহাসের বাঁক বদলকারী সেই ১৬ জুলাই

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাঈদ বুক পেতে বীরত্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে পুলিশ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসনের পতনের আন্দোলনে চূড়ান্ত গতিবেগ সঞ্চার করে।