ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস

সাক্ষরতার আলোয় ফিরে দেখা শৈশব

blank

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য— “মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা”, যা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এই দিনে দাঁড়িয়ে আজ ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে আমার শৈশবের সেই দিনগুলোতে—আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিনগুলোতে, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি আমরা শিখেছিলাম মানুষের জন্য কিছু করার আনন্দ।

তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি তখন। আমাদের বিদ্যালয়ের নাম ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক ছিলেন শ্রদ্ধেয় জনাব সোহরাব হোসেন স্যার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জনাব মো. মোত্তালেব হোসেন, জনাব মো. আমিন, জনাব মো. আছালত হোসেন, জনাব মো. শাহাদাত হোসেন স্যারসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক। আমাদের সৌভাগ্য ছিল, প্রতিটি শিক্ষকই ছিলেন অত্যন্ত উদ্ভাবনী, আন্তরিক এবং প্রচণ্ড শিক্ষার্থীবান্ধব।

একবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আমাদের শ্রেণিকক্ষে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হলো। শিক্ষকরা আমাদের কয়েকটি দলে ভাগ করে দিলেন। প্রতিটি দলকে পাঠানো হলো বিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, পাড়া বা মহল্লায়। আমাদের কাজ ছিল—যারা একেবারেই লিখতে জানেন না, তাদের নিজের নাম লেখা শেখানো, যাতে ভবিষ্যতে শুধু টিপসই দিয়ে কোনো কাজে স্বাক্ষর করতে না হয়।

কাজটি হয়তো শুনতে খুবই সামান্য। কিন্তু আমাদের কাছে সেটি ছিল এক অসাধারণ অভিযান। ছিল উৎসাহ, আনন্দ আর এক ধরনের দায়িত্ববোধ। প্রত্যেকে নিজের খাতা ও পেনসিল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

আমার ভাগ্যে পড়েছিল বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের মহল্লা—ধারাবারিষা দক্ষিণ পাড়ার মধ্যপাড়া। আজও স্পষ্ট মনে পড়ে, সেখানে আমি তিন-চারজন মহিলাকে তাঁদের নিজের নাম লেখা শিখিয়েছিলাম। তাঁরা ছিলেন মধ্যবয়সী কিংবা তার চেয়েও বেশি বয়সের। জীবনে হয়তো নানা কারণে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ হয়নি। সেদিন তাঁদের হাতে পেন্সিল তুলে দিয়ে নিজের নামটি লিখতে শেখানোর আনন্দ ছিল সত্যিই অন্যরকম।

শিক্ষকরা আমাদের একটি সুন্দর নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। পরের দিন প্রত্যেককে যাঁদের নাম লেখা শেখানো হয়েছিল, তাঁদের রাফ লেখাসহ খাতা অক্ষত অবস্থায় প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে—তাঁরা আগে লিখতে জানতেন না এবং সেদিনই প্রথমবারের মতো নিজের নাম লিখতে শিখেছেন।

blank

সেদিন আমরা প্রায় প্রত্যেকেই গড়ে দুই-তিনজন মানুষের নাম লেখা শেখাতে পেরেছিলাম। বাড়িতে ফিরে জানতে পারলাম, আমাদের বাড়ির আশপাশেও অন্য দলগুলোর কয়েকজন শিক্ষার্থী গিয়েছিল এবং তারাও কয়েকজনকে নাম লেখা শিখিয়েছে। ভাবতেই ভালো লাগছিল—আমাদের ছোট্ট একটি উদ্যোগে কতজন মানুষ সেদিন প্রথমবারের মতো নিজের নাম লিখতে পেরেছিলেন!

আজ এত বছর পর সেই স্মৃতি মনে পড়লে উপলব্ধি করি, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়; সাক্ষরতা মানুষের আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও নিজের পরিচয়কে নিজের হাতে প্রকাশ করার সক্ষমতা। একজন মানুষ যখন নিজের নামটি নিজে লিখতে পারেন, তখন সেটি তাঁর জন্য নিছক কয়েকটি অক্ষর লেখা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতার এক নতুন অনুভূতি।

আমাদের সেই শিক্ষকরা হয়তো সেদিন কোনো বড় আয়োজন করেননি। কিন্তু তাঁরা শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন আমাদের শেখার অভিজ্ঞতাকে। বইয়ের পাতার সঙ্গে বাস্তব জীবনকে মিলিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা শিখেছিলাম—শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়; শিক্ষা মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্যও।

এ প্রসঙ্গে আমার পড়া অন্যতম প্রিয় বই ‘তোত্তো-চান: জানালার ধারে ছোট্ট মেয়ে’-এর কথা মনে পড়ে। তেতসুকো কুরোয়ানাগির লেখা এই বইয়ে তোত্তো-চানের স্কুলজীবনের মধ্য দিয়ে এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার ছবি ফুটে ওঠে, যেখানে শিশুর কৌতূহল, সৃজনশীলতা, স্বাধীনভাবে ভাবার ক্ষমতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের সীমার বাইরে গিয়ে শিশুকে জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তোলার যে শিক্ষাদর্শ বইটিতে দেখা যায়, আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই আয়োজনটির মধ্যেও যেন তার একটি ছোট্ট প্রতিফলন দেখতে পাই।

শিক্ষকদের উদ্ভাবনী চিন্তা আর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সেদিনের সেই আয়োজন আমাদের জন্য শুধু একটি দিবস পালন ছিল না; বরং সেটি ছিল জীবন থেকে শেখার একটি অসাধারণ পাঠ। হয়তো তখন আমরা এর গভীরতা বুঝিনি। আজ বুঝি—সেই ছোট্ট বয়সেই আমাদের শিক্ষকরা আমাদের মধ্যে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং অন্যের জন্য কিছু করার মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছিলেন।

এখন বিদ্যালয়গুলোতে এমন আয়োজন হয় কি না, জানি না। তবে আমি বিশ্বাস করি, শিশুদের শুধু শ্রেণিকক্ষের বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নানা সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে শেখার আনন্দ অনেক বেড়ে যায়। আর এমন উদ্যোগের ভাবনা আসতে হয় শিক্ষকদের কাছ থেকেই। একজন সৃজনশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক একটি শিশুর জীবনে শুধু জ্ঞানই দেন না, তিনি তার চিন্তার জগতকেও বদলে দিতে পারেন।

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে তাই শৈশবের সেই ছোট্ট স্মৃতিটি আমার কাছে বিশেষভাবে মূল্যবান। কারণ সেই দিন আমরা শুধু কয়েকজন মানুষকে তাঁদের নাম লেখা শেখাইনি; আমরাও শিখেছিলাম—শিক্ষার সবচেয়ে সুন্দর রূপ হলো, যে আলো আমরা নিজেরা পেয়েছি, তা অন্যের হাতে তুলে দেওয়া।

আমার প্রিয় ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের প্রতি রইল প্রাণভরা দোয়া, শ্রদ্ধা ও শুভকামনা। তাঁদের স্নেহ, শিক্ষা ও উদ্ভাবনী চিন্তার ঋণ হয়তো কোনোদিন শোধ করার নয়। শৈশবের সেই শিক্ষার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে সকলের প্রতি শুভকামনা।

——————————

লেখকঃ সিনিঃসহকারি সচিব

merinabiam2025@gmail.com 

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস

সাক্ষরতার আলোয় ফিরে দেখা শৈশব

প্রকাশের সময় : ২০ ঘন্টা আগে
blank

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য— “মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা”, যা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এই দিনে দাঁড়িয়ে আজ ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে আমার শৈশবের সেই দিনগুলোতে—আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিনগুলোতে, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি আমরা শিখেছিলাম মানুষের জন্য কিছু করার আনন্দ।

তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি তখন। আমাদের বিদ্যালয়ের নাম ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক ছিলেন শ্রদ্ধেয় জনাব সোহরাব হোসেন স্যার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জনাব মো. মোত্তালেব হোসেন, জনাব মো. আমিন, জনাব মো. আছালত হোসেন, জনাব মো. শাহাদাত হোসেন স্যারসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক। আমাদের সৌভাগ্য ছিল, প্রতিটি শিক্ষকই ছিলেন অত্যন্ত উদ্ভাবনী, আন্তরিক এবং প্রচণ্ড শিক্ষার্থীবান্ধব।

একবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আমাদের শ্রেণিকক্ষে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হলো। শিক্ষকরা আমাদের কয়েকটি দলে ভাগ করে দিলেন। প্রতিটি দলকে পাঠানো হলো বিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, পাড়া বা মহল্লায়। আমাদের কাজ ছিল—যারা একেবারেই লিখতে জানেন না, তাদের নিজের নাম লেখা শেখানো, যাতে ভবিষ্যতে শুধু টিপসই দিয়ে কোনো কাজে স্বাক্ষর করতে না হয়।

কাজটি হয়তো শুনতে খুবই সামান্য। কিন্তু আমাদের কাছে সেটি ছিল এক অসাধারণ অভিযান। ছিল উৎসাহ, আনন্দ আর এক ধরনের দায়িত্ববোধ। প্রত্যেকে নিজের খাতা ও পেনসিল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

আমার ভাগ্যে পড়েছিল বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের মহল্লা—ধারাবারিষা দক্ষিণ পাড়ার মধ্যপাড়া। আজও স্পষ্ট মনে পড়ে, সেখানে আমি তিন-চারজন মহিলাকে তাঁদের নিজের নাম লেখা শিখিয়েছিলাম। তাঁরা ছিলেন মধ্যবয়সী কিংবা তার চেয়েও বেশি বয়সের। জীবনে হয়তো নানা কারণে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ হয়নি। সেদিন তাঁদের হাতে পেন্সিল তুলে দিয়ে নিজের নামটি লিখতে শেখানোর আনন্দ ছিল সত্যিই অন্যরকম।

শিক্ষকরা আমাদের একটি সুন্দর নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। পরের দিন প্রত্যেককে যাঁদের নাম লেখা শেখানো হয়েছিল, তাঁদের রাফ লেখাসহ খাতা অক্ষত অবস্থায় প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে—তাঁরা আগে লিখতে জানতেন না এবং সেদিনই প্রথমবারের মতো নিজের নাম লিখতে শিখেছেন।

blank

সেদিন আমরা প্রায় প্রত্যেকেই গড়ে দুই-তিনজন মানুষের নাম লেখা শেখাতে পেরেছিলাম। বাড়িতে ফিরে জানতে পারলাম, আমাদের বাড়ির আশপাশেও অন্য দলগুলোর কয়েকজন শিক্ষার্থী গিয়েছিল এবং তারাও কয়েকজনকে নাম লেখা শিখিয়েছে। ভাবতেই ভালো লাগছিল—আমাদের ছোট্ট একটি উদ্যোগে কতজন মানুষ সেদিন প্রথমবারের মতো নিজের নাম লিখতে পেরেছিলেন!

আজ এত বছর পর সেই স্মৃতি মনে পড়লে উপলব্ধি করি, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়; সাক্ষরতা মানুষের আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও নিজের পরিচয়কে নিজের হাতে প্রকাশ করার সক্ষমতা। একজন মানুষ যখন নিজের নামটি নিজে লিখতে পারেন, তখন সেটি তাঁর জন্য নিছক কয়েকটি অক্ষর লেখা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতার এক নতুন অনুভূতি।

আমাদের সেই শিক্ষকরা হয়তো সেদিন কোনো বড় আয়োজন করেননি। কিন্তু তাঁরা শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন আমাদের শেখার অভিজ্ঞতাকে। বইয়ের পাতার সঙ্গে বাস্তব জীবনকে মিলিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা শিখেছিলাম—শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়; শিক্ষা মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্যও।

এ প্রসঙ্গে আমার পড়া অন্যতম প্রিয় বই ‘তোত্তো-চান: জানালার ধারে ছোট্ট মেয়ে’-এর কথা মনে পড়ে। তেতসুকো কুরোয়ানাগির লেখা এই বইয়ে তোত্তো-চানের স্কুলজীবনের মধ্য দিয়ে এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার ছবি ফুটে ওঠে, যেখানে শিশুর কৌতূহল, সৃজনশীলতা, স্বাধীনভাবে ভাবার ক্ষমতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের সীমার বাইরে গিয়ে শিশুকে জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তোলার যে শিক্ষাদর্শ বইটিতে দেখা যায়, আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই আয়োজনটির মধ্যেও যেন তার একটি ছোট্ট প্রতিফলন দেখতে পাই।

শিক্ষকদের উদ্ভাবনী চিন্তা আর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সেদিনের সেই আয়োজন আমাদের জন্য শুধু একটি দিবস পালন ছিল না; বরং সেটি ছিল জীবন থেকে শেখার একটি অসাধারণ পাঠ। হয়তো তখন আমরা এর গভীরতা বুঝিনি। আজ বুঝি—সেই ছোট্ট বয়সেই আমাদের শিক্ষকরা আমাদের মধ্যে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং অন্যের জন্য কিছু করার মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছিলেন।

এখন বিদ্যালয়গুলোতে এমন আয়োজন হয় কি না, জানি না। তবে আমি বিশ্বাস করি, শিশুদের শুধু শ্রেণিকক্ষের বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নানা সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে শেখার আনন্দ অনেক বেড়ে যায়। আর এমন উদ্যোগের ভাবনা আসতে হয় শিক্ষকদের কাছ থেকেই। একজন সৃজনশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক একটি শিশুর জীবনে শুধু জ্ঞানই দেন না, তিনি তার চিন্তার জগতকেও বদলে দিতে পারেন।

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে তাই শৈশবের সেই ছোট্ট স্মৃতিটি আমার কাছে বিশেষভাবে মূল্যবান। কারণ সেই দিন আমরা শুধু কয়েকজন মানুষকে তাঁদের নাম লেখা শেখাইনি; আমরাও শিখেছিলাম—শিক্ষার সবচেয়ে সুন্দর রূপ হলো, যে আলো আমরা নিজেরা পেয়েছি, তা অন্যের হাতে তুলে দেওয়া।

আমার প্রিয় ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের প্রতি রইল প্রাণভরা দোয়া, শ্রদ্ধা ও শুভকামনা। তাঁদের স্নেহ, শিক্ষা ও উদ্ভাবনী চিন্তার ঋণ হয়তো কোনোদিন শোধ করার নয়। শৈশবের সেই শিক্ষার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে সকলের প্রতি শুভকামনা।

——————————

লেখকঃ সিনিঃসহকারি সচিব

merinabiam2025@gmail.com