নওগাঁর রানীনগরে আদালতের রায়ের পর কলেজে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন আবাদপুকুর কলেজের অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা জুয়েল। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে আসেন অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা। কলেজে প্রবেশের সময় কয়েকজন তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বাধা উপেক্ষা করে তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁর কক্ষে ঢুকে তাঁকে গালাগাল করে। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু জার গাফফার জানান, দুপুর ১টার দিকে জি এম মাসুদ রানাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর দুই পা ও এক হাতের হাড়ে চিড় রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার বিষয়ে জি এম মাসুদ রানা বলেন, ‘১১টার দিকে কলেজে যোগদান করতে যাই। কলেজে ঢোকার সময় বহিরাগত কিছু লোক আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং কলেজ থেকে বের হয়ে যেতে বলে। বাধা উপেক্ষা করে কক্ষে প্রবেশ করার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন কক্ষে ঢুকে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমাকে কলেজ মাঠে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় আমি মামলা করব।’
কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জি এম মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং কলেজের তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।
কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, অধ্যক্ষের ওপর হামলার খবর পাওয়ার পরপরই তিনি থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ইউএনও আরও বলেন, তাঁর কাছে অভিযোগ রয়েছে যে, আবাদপুকুর কলেজে ডিগ্রি সেকশন খোলার কথা বলে কয়েকজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে পাওনাদাররা এর আগে একাধিকবার অভিযোগও করেছেন। চাকরিবঞ্চিত ব্যক্তিদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর ও তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক 


















