ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে নদী-খাল পুনঃখনন ও উদ্ধার করা হবে: আলমডাঙ্গায় পানিসম্পদ মন্ত্রী

blank

সারা দেশে সেচব্যবস্থার ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, “বিগত সরকারের আমলে অনেক খাল লিজ দেওয়া হয়েছে বা আবাদের সুযোগ দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এখন থেকে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই খালের তলদেশের গড় প্রশস্ততা হবে ৭ মিটার এবং গভীরতা হবে ১.৫ মিটার। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এলাকার অন্তত ৫ হাজার ২০০ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

 শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ছিল একটি বিপ্লব। সেই সময় মরুভূমি থেকে সুরক্ষাসহ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিদেশেও রপ্তানি করেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন, কৃষককে বাঁচাতে হলে খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের বিকল্প নেই। জিয়াউর রহমানের সেই অসমাপ্ত বিপ্লব এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে সফল হবে।”

 মন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, যার পরিমাণ সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া ফসলি জমির পাশে বৃক্ষরোপণ, মৎস্য চাষ এবং হাঁস চাষের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং বন উজাড় হওয়া রোধে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, খাল খননে শুধু ড্রেজার নয়, বরং স্থানীয় নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের যুক্ত করা হবে যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত খনন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।

 সতর্কবাণী উচ্চারণ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “খাল খননে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। জলাশয় পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখব। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না এবং আমরা জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা চাই।”

অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

blank

ঢাকায় কলাপাড়াবাসীর মিলনমেলা: মোশাররফ হোসেন এমপিকে সংবর্ধনা

সারাদেশে নদী-খাল পুনঃখনন ও উদ্ধার করা হবে: আলমডাঙ্গায় পানিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
blank

সারা দেশে সেচব্যবস্থার ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, “বিগত সরকারের আমলে অনেক খাল লিজ দেওয়া হয়েছে বা আবাদের সুযোগ দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এখন থেকে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই খালের তলদেশের গড় প্রশস্ততা হবে ৭ মিটার এবং গভীরতা হবে ১.৫ মিটার। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এলাকার অন্তত ৫ হাজার ২০০ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

 শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ছিল একটি বিপ্লব। সেই সময় মরুভূমি থেকে সুরক্ষাসহ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিদেশেও রপ্তানি করেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন, কৃষককে বাঁচাতে হলে খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের বিকল্প নেই। জিয়াউর রহমানের সেই অসমাপ্ত বিপ্লব এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে সফল হবে।”

 মন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, যার পরিমাণ সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া ফসলি জমির পাশে বৃক্ষরোপণ, মৎস্য চাষ এবং হাঁস চাষের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং বন উজাড় হওয়া রোধে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, খাল খননে শুধু ড্রেজার নয়, বরং স্থানীয় নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের যুক্ত করা হবে যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত খনন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।

 সতর্কবাণী উচ্চারণ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “খাল খননে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। জলাশয় পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখব। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না এবং আমরা জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা চাই।”

অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।