আমি আগাছা…
কেউ আমাকে বুনে দেয়নি স্বপ্নের যত্নে,
তবু ভোরের শিশিরে প্রথম আমিই জেগে উঠি।
অচেনা মাটির বুকে জন্ম নিয়েও
এই পৃথিবীকেই আপন ভেবে শিকড় ছড়াই নীরবে।
ধানগাছেরা যখন আকাশ ছুঁতে শেখে,
আমি নিচে থেকে তাদের মাটি শক্ত করে রাখি,
ঝড়ের রাতে বুক পেতে দিই বাতাসের আঘাত,
যেন কারও সবুজ স্বপ্ন ভেঙে না যায়।
কেউ জানে না…
রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে
আমি কতবার মাটির ক্ষত ঢেকেছি,
শুকিয়ে যাওয়া জমিনে নিঃশব্দে
ফিরিয়ে দিয়েছি জীবনের আর্দ্রতা।
তবু মানুষের চোখে আমি অনাহূত, অপ্রয়োজনীয়,
এক মুঠো অবহেলার অন্য নাম।
যেদিন ফসল বড় হয়,
সেদিনই আমার বিচার হয়…
লোহার কোদালে উপড়ে ফেলা হয় আমার অস্তিত্ব।
আমি তখন মাটির গন্ধে মিশে যেতে যেতে ভাবি,
উপকারের কি সত্যিই কোনো স্মৃতি থাকে?
নাকি প্রয়োজন শেষ হলেই
সব সম্পর্ক আগাছার মতোই মুছে যায়?
কষ্ট পাই, তবু অভিশাপ দিই না কাউকে,
কারণ দেওয়াই তো আমার জন্মের অর্থ।
অচেনা উপকারে বেঁচে থাকাই আমার পরিচয়,
স্বীকৃতি নয়, শান্তিই আমার প্রাপ্তি।
হয়তো আবার কোনো বৃষ্টিভেজা সকালে
নতুন নামে ফিরে আসবো এই পৃথিবীতে…
কারও ছায়া হয়ে, কারও অজানা সহায় হয়ে।
আমি আগাছা,
অবহেলার ভেতরেই লুকিয়ে রাখা
নিঃশব্দ ভালোবাসার এক অনন্ত আত্মকাহিনী।

খাইরুল বাসার পলাশ 


















