যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পরিবার। অবশেষে সব আশার আলো নিভিয়ে দিয়ে তার মৃত্যুর মর্মান্তিক দুঃসংবাদটি সামনে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর নাহিদাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তার ভাই এই হৃদয়বিদারক খবরটি জানান। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এই সাবেক শিক্ষার্থীর এমন করুণ মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাহিদ হাসান প্রান্ত জানান, মার্কিন পুলিশ টেলিফোনে তাকে নাহিদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এক সন্দেহভাজনের বাসা থেকে রক্তমাখা অবস্থায় মানবদেহের একটি টুকরো উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই দেহাংশটি নাহিদার। তবে তার মরদেহের সম্পূর্ণ অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, সে ব্যাপারে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি। এর আগে নাহিদাকে নিয়ে ইন্টারনেটে নানা গুজব ছড়ালে তার ভাই সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে শেষমেশ মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবরটিই সত্য বলে প্রমাণিত হলো।
নাহিদার পাশাপাশি একই ঘটনায় নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনেরও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানায়, ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
জামিলের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নাহিদার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা চরমে পৌঁছেছিল। প্রায় কাছাকাছি সময়ে নিখোঁজ হওয়া এই দুই শিক্ষার্থীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চরম শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। এর আগে তিনি নোবিপ্রবির অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল টাম্পায় লিমনের বাসায় নাহিদাকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এই জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশ লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। ওই সন্দেহভাজনের বাসা থেকেই নাহিদার দেহাংশের নমুনা উদ্ধার করা হয়। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃতকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

অনলাইন ডেস্ক 


















