ঢাকা রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরি ও ঋণের প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ: গুরুদাসপুরে পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

blank

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া এবং ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা সুপার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় চলনবিল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতারক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্তরা হলেন—গুরুদাসপুরের ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আব্দুল গণি মিয়া এবং তার ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কথিত সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুল মোনায়েম।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী উপজেলার বিয়াঘাট গ্রামের নাজিম উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদ, বাহারুল ইসলাম ও মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউনুস আলী উপস্থিত থেকে তাদের প্রতারিত হওয়ার বিবরণ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক (এডি) পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে মোনায়েম তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেন। টাকার নিশ্চয়তা স্বরূপ মোনায়েমের পিতা গণি মিয়া তার ব্যাংক হিসাবের (হিসাব নং ৪৯০৬০০২০৩২৬২৮) একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু চলতি বছরের ১২ মার্চ ওই চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিজঅনার (প্রত্যাখ্যাত) হয়।

প্রতারণার শিকার চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউনুস আলী জানান, তাকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ফিল্ড অফিসার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এই পিতা-পুত্র ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে, উপজেলার শিকারপুর বাহাদুরপাড়া গ্রামের মাওলানা আব্দুল বারীর ছেলে বাহারুল ইসলামকে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

চাকরি ছাড়াও ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। চাঁচকৈড় বাজারের কাজী আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৯৭ হাজার টাকা এবং একই বাজারের মুদি দোকানি মিঠু প্রামাণিকের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। মিঠু প্রামাণিক জানান, “মাদ্রাসার সুপার ও তার ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পরিচয় দিয়ে আমাকে লোন দিতে চান। এর জন্য ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর থেকে তারা আর ধরাছোঁয়ার মধ্যে নেই।”

শুধু সাধারণ মানুষই নন, বন্ধুকেও ছাড়েননি প্রতারক গণি মিয়া। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, ১৬ বছর আগে জমি রেজিস্ট্রির সময় বিপদে পড়ে গণি মিয়া তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা আজও ফেরত দেননি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল মোনায়েম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। চেকের বিষয়টি মাদ্রাসার একটি সমিতি সংক্রান্ত। মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের সম্মান ও ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “পিতা-পুত্রের প্রতারণার বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

blank

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, কার্যকর আজ মধ্যরাত থেকে

চাকরি ও ঋণের প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ: গুরুদাসপুরে পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া এবং ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা সুপার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় চলনবিল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতারক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্তরা হলেন—গুরুদাসপুরের ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আব্দুল গণি মিয়া এবং তার ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কথিত সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুল মোনায়েম।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী উপজেলার বিয়াঘাট গ্রামের নাজিম উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদ, বাহারুল ইসলাম ও মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউনুস আলী উপস্থিত থেকে তাদের প্রতারিত হওয়ার বিবরণ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক (এডি) পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে মোনায়েম তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেন। টাকার নিশ্চয়তা স্বরূপ মোনায়েমের পিতা গণি মিয়া তার ব্যাংক হিসাবের (হিসাব নং ৪৯০৬০০২০৩২৬২৮) একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু চলতি বছরের ১২ মার্চ ওই চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিজঅনার (প্রত্যাখ্যাত) হয়।

প্রতারণার শিকার চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউনুস আলী জানান, তাকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ফিল্ড অফিসার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এই পিতা-পুত্র ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে, উপজেলার শিকারপুর বাহাদুরপাড়া গ্রামের মাওলানা আব্দুল বারীর ছেলে বাহারুল ইসলামকে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

চাকরি ছাড়াও ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। চাঁচকৈড় বাজারের কাজী আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৯৭ হাজার টাকা এবং একই বাজারের মুদি দোকানি মিঠু প্রামাণিকের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। মিঠু প্রামাণিক জানান, “মাদ্রাসার সুপার ও তার ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পরিচয় দিয়ে আমাকে লোন দিতে চান। এর জন্য ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর থেকে তারা আর ধরাছোঁয়ার মধ্যে নেই।”

শুধু সাধারণ মানুষই নন, বন্ধুকেও ছাড়েননি প্রতারক গণি মিয়া। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, ১৬ বছর আগে জমি রেজিস্ট্রির সময় বিপদে পড়ে গণি মিয়া তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা আজও ফেরত দেননি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল মোনায়েম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। চেকের বিষয়টি মাদ্রাসার একটি সমিতি সংক্রান্ত। মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের সম্মান ও ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “পিতা-পুত্রের প্রতারণার বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”