ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডা থেকে ৬ মাসে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক ফেরত, তালিকায় সপ্তম বাংলাদেশ

blank

কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের সংখ্যা ৩ হাজার ৩২৩ জন।

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফেরত পাঠানোর তালিকায় ভারতের পর রয়েছে মেক্সিকো। দেশটির ১ হাজার ৫৭৩ জন নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এরপর হাইতির ৪৩১, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭২, কলম্বিয়ার ৩৫৪, রোমানিয়ার ২৯৩ এবং বাংলাদেশের ২২৭ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের ২০৭, নাইজেরিয়ার ২০৫ এবং চিলির ১৯০ জন নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

ভারতীয় নাগরিকদের কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১ হাজার ৪২৪ জন, ২০২১ সালে ৬০৩ জন, ২০২২ সালে ৭৮৬ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৭৯ জনে।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ২২৭ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর ফলে ফেরত পাঠানোর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। ২০২০ সালেও বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় ছিল। সে বছর ৩০৮ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত শীর্ষ ১০ তালিকায় বাংলাদেশের নাম ছিল না।

সিবিএসএর সর্বশেষ তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর মোট সংখ্যা কয়েক বছর ধরে দ্রুত বাড়ছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক ফেরত পাঠানোর সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে মোট ২৩ হাজার ১৬০ জনকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ কী

সিবিএসএর পরিসংখ্যান বলছে, কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ অপরাধ নয়। বরং অভিবাসন আইন মেনে না চলা, বিশেষ করে শরণার্থী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত অসংগতির কারণে ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেশি।

২০২৫ সালে কানাডা থেকে মোট ২৩ হাজার ১৬০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৯ হাজার ২২৫টি ঘটনা ছিল শরণার্থী আবেদনকারীদের অভিবাসন আইন না মানা বা Non-compliance-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অপরদিকে অপরাধের কারণে ফেরত পাঠানো হয় ১ হাজার ৬৬ জনকে। সংগঠিত অপরাধের কারণে ৯৮টি, ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে ১৪৫টি এবং শরণার্থী মর্যাদা বাতিলসংক্রান্ত কারণে ৪৬টি অপসারণের ঘটনা ঘটেছে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ সময়ে মোট ১০ হাজার ৬০৭টি অপসারণের মধ্যে ৮ হাজার ৫৫১টি ছিল শরণার্থী আবেদনকারীদের Non-compliance এবং ১ হাজার ৩০৩টি ছিল Non-claimants-এর Non-compliance-এর কারণে। অপরাধের কারণে অপসারণ করা হয়েছে ৬২৪ জনকে। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট অপসারণের প্রায় ৮১ শতাংশই শরণার্থী আবেদনকারীদের Non-compliance-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

কানাডার হাতে এখনো বিপুলসংখ্যক অপসারণের মামলা

সিবিএসএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কানাডায় ৪০ হাজার ৮২৭ জনের removal-in-progress inventory ছিল। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জন শরণার্থী আবেদনকারীদের Non-compliance শ্রেণিতে এবং ১ হাজার ৫৭৬ জন Criminality শ্রেণিতে রয়েছেন।

কেন বাড়ছে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা

সিবিএসএর সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মোট ১৫ হাজার ২৩১ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৭ হাজার ৩৯৭ এবং ২০২৫ সালে ২৩ হাজার ১৬০ জনে পৌঁছায়।

একই সময়ে শরণার্থী আবেদনকারীদের Non-compliance-এর কারণে ফেরত পাঠানোর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের অপসারণের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ১৩৬, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১৯ হাজার ২২৫-এ দাঁড়ায়।

সিবিএসএর ২০২৫ সালের একটি সরকারি নথিতে বলা হয়েছিল, ২০২৩–২৪ এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ জনকে কানাডা থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বছরে ২৫ হাজার পর্যন্ত অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা তৈরির কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি।

তবে সিবিএসএর এসব পরিসংখ্যানকে সরাসরি ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘অপরাধীদের’ তালিকা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ফেরত পাঠানোর বড় একটি অংশই অভিবাসন আইনের সঙ্গে অসংগতি, বিশেষ করে শরণার্থী আবেদন প্রত্যাখ্যান বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, Criminality-এর তুলনায় Non-compliance-এর কারণে অপসারণের সংখ্যা অনেক বেশি।

জনপ্রিয় খবর
blank

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কানাডা থেকে ৬ মাসে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক ফেরত, তালিকায় সপ্তম বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ৯ ঘন্টা আগে
blank

কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের সংখ্যা ৩ হাজার ৩২৩ জন।

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফেরত পাঠানোর তালিকায় ভারতের পর রয়েছে মেক্সিকো। দেশটির ১ হাজার ৫৭৩ জন নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এরপর হাইতির ৪৩১, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭২, কলম্বিয়ার ৩৫৪, রোমানিয়ার ২৯৩ এবং বাংলাদেশের ২২৭ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের ২০৭, নাইজেরিয়ার ২০৫ এবং চিলির ১৯০ জন নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

ভারতীয় নাগরিকদের কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১ হাজার ৪২৪ জন, ২০২১ সালে ৬০৩ জন, ২০২২ সালে ৭৮৬ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৭৯ জনে।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ২২৭ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর ফলে ফেরত পাঠানোর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। ২০২০ সালেও বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় ছিল। সে বছর ৩০৮ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত শীর্ষ ১০ তালিকায় বাংলাদেশের নাম ছিল না।

সিবিএসএর সর্বশেষ তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর মোট সংখ্যা কয়েক বছর ধরে দ্রুত বাড়ছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক ফেরত পাঠানোর সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে মোট ২৩ হাজার ১৬০ জনকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ কী

সিবিএসএর পরিসংখ্যান বলছে, কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ অপরাধ নয়। বরং অভিবাসন আইন মেনে না চলা, বিশেষ করে শরণার্থী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত অসংগতির কারণে ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেশি।

২০২৫ সালে কানাডা থেকে মোট ২৩ হাজার ১৬০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৯ হাজার ২২৫টি ঘটনা ছিল শরণার্থী আবেদনকারীদের অভিবাসন আইন না মানা বা Non-compliance-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অপরদিকে অপরাধের কারণে ফেরত পাঠানো হয় ১ হাজার ৬৬ জনকে। সংগঠিত অপরাধের কারণে ৯৮টি, ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে ১৪৫টি এবং শরণার্থী মর্যাদা বাতিলসংক্রান্ত কারণে ৪৬টি অপসারণের ঘটনা ঘটেছে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ সময়ে মোট ১০ হাজার ৬০৭টি অপসারণের মধ্যে ৮ হাজার ৫৫১টি ছিল শরণার্থী আবেদনকারীদের Non-compliance এবং ১ হাজার ৩০৩টি ছিল Non-claimants-এর Non-compliance-এর কারণে। অপরাধের কারণে অপসারণ করা হয়েছে ৬২৪ জনকে। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট অপসারণের প্রায় ৮১ শতাংশই শরণার্থী আবেদনকারীদের Non-compliance-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

কানাডার হাতে এখনো বিপুলসংখ্যক অপসারণের মামলা

সিবিএসএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কানাডায় ৪০ হাজার ৮২৭ জনের removal-in-progress inventory ছিল। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জন শরণার্থী আবেদনকারীদের Non-compliance শ্রেণিতে এবং ১ হাজার ৫৭৬ জন Criminality শ্রেণিতে রয়েছেন।

কেন বাড়ছে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা

সিবিএসএর সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মোট ১৫ হাজার ২৩১ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৭ হাজার ৩৯৭ এবং ২০২৫ সালে ২৩ হাজার ১৬০ জনে পৌঁছায়।

একই সময়ে শরণার্থী আবেদনকারীদের Non-compliance-এর কারণে ফেরত পাঠানোর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের অপসারণের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ১৩৬, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১৯ হাজার ২২৫-এ দাঁড়ায়।

সিবিএসএর ২০২৫ সালের একটি সরকারি নথিতে বলা হয়েছিল, ২০২৩–২৪ এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ জনকে কানাডা থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বছরে ২৫ হাজার পর্যন্ত অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা তৈরির কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি।

তবে সিবিএসএর এসব পরিসংখ্যানকে সরাসরি ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘অপরাধীদের’ তালিকা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ফেরত পাঠানোর বড় একটি অংশই অভিবাসন আইনের সঙ্গে অসংগতি, বিশেষ করে শরণার্থী আবেদন প্রত্যাখ্যান বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, Criminality-এর তুলনায় Non-compliance-এর কারণে অপসারণের সংখ্যা অনেক বেশি।