ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতি যেন রোজগারের মাধ্যম না হয়: ড. এম ওসমান ফারুক

blank

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, রাজনীতি মানুষের উন্নয়নের জন্য, রোজগারের বিষয় নয়। যারা রাজনীতি করছেন, তাদের সময় ও শ্রম মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। 

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় করিমগঞ্জ উপজেলার নানশ্রী মুদির বাজারে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

ড. ওসমান ফারুক বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি রাজনীতি কখনোই আয়ের উৎস হতে পারে না। আমার আশেপাশে যারা আছেন, তারাও যেন এই চেতনায় রাজনীতি করেন— যাতে অন্যের উন্নতি হয়।’

 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে একটি কমিটমেন্ট দেখা যাচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, গণতন্ত্রের পথে আমরা এগোতে না পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সে কারণেই আমি মনে করি সরকার সঠিক পথেই আছে।

 

তিনি আরও বলেন, ইউনুস সাহেব আমার পরিচিত মানুষ। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করছেন। তবে সরকার যত চেষ্টাই করুক, জনগণ সহযোগিতা না করলে সফলতা আসবে না। তাই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন ও সার্বজনিক উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই।

 

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়ে দলের অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত আসা উচিত। আমি এককভাবে কিছু বলতে পারি না।

 

ড. ওসমান ফারুক মঙ্গলবার দুপুর থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করে রাত পর্যন্ত কর্মসূচি চালান। এ সময় তিনি জয়কা ইউনিয়নের সাদকখালি মোড়, নানশ্রী সরকারবাড়ি মোড়, দক্ষিণ নানশ্রী কদমতলী বাজার, কান্দাইল ও মথুরাপাড়া গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন। তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ধানের শীষে ভোট চান।

 

নানশ্রী মুদির বাজারের পথসভায় বিপুলসংখ্যক নারী কর্মীর উপস্থিতি দেখে তিনি বলেন, আমি দেশে-বিদেশে অনেক জনসভা দেখেছি, কিন্তু আজকের মতো নারীদের এমন অংশগ্রহণ বিরল। পুরুষরা কাজ করবে আর নারীরা বসে থাকবে— এভাবে কোনো জাতির উন্নতি হয় না। দেশের যেকোনো কাজে মা-বোনদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

 

নিজের রাজনৈতিক যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার পিতা ড. ওসমান গনি বলতেন— বিদেশে যত বড় চাকরিই করো, শেষ জীবনটা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাবে। আমি বিশ্বব্যাংকে চাকরি করতাম। জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

 

বিএনপি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির উদ্দেশ্য আপামর জনসাধারণের উন্নতি। অন্য দলও একথা বলে, তবে আমি মনে করি জনমানুষের কাজে আমরা এগিয়ে। আনুগত্য নয়— দেশের উন্নয়নে যারা বেশি অবদান রাখতে পারবে, তাদের পক্ষে আপনারা সমর্থন দিন।

 

গণসংযোগ ও পথসভায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, সাবেক সহ-সভাপতি জালাল মোহাম্মদ গাউস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলাল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান দুলাল শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফীউজ্জামান শফী, করিমগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফ হোসেন পাভেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসাইন খান পল্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুখছেদুল মমিন সবুজ, মো. আলমগীর হোসেন আলমসহ দলের নেতাকর্মীরা।

blank

ঢাকায় কলাপাড়াবাসীর মিলনমেলা: মোশাররফ হোসেন এমপিকে সংবর্ধনা

রাজনীতি যেন রোজগারের মাধ্যম না হয়: ড. এম ওসমান ফারুক

প্রকাশের সময় : ০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
blank

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, রাজনীতি মানুষের উন্নয়নের জন্য, রোজগারের বিষয় নয়। যারা রাজনীতি করছেন, তাদের সময় ও শ্রম মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। 

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় করিমগঞ্জ উপজেলার নানশ্রী মুদির বাজারে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

ড. ওসমান ফারুক বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি রাজনীতি কখনোই আয়ের উৎস হতে পারে না। আমার আশেপাশে যারা আছেন, তারাও যেন এই চেতনায় রাজনীতি করেন— যাতে অন্যের উন্নতি হয়।’

 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে একটি কমিটমেন্ট দেখা যাচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, গণতন্ত্রের পথে আমরা এগোতে না পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সে কারণেই আমি মনে করি সরকার সঠিক পথেই আছে।

 

তিনি আরও বলেন, ইউনুস সাহেব আমার পরিচিত মানুষ। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করছেন। তবে সরকার যত চেষ্টাই করুক, জনগণ সহযোগিতা না করলে সফলতা আসবে না। তাই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন ও সার্বজনিক উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই।

 

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়ে দলের অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত আসা উচিত। আমি এককভাবে কিছু বলতে পারি না।

 

ড. ওসমান ফারুক মঙ্গলবার দুপুর থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করে রাত পর্যন্ত কর্মসূচি চালান। এ সময় তিনি জয়কা ইউনিয়নের সাদকখালি মোড়, নানশ্রী সরকারবাড়ি মোড়, দক্ষিণ নানশ্রী কদমতলী বাজার, কান্দাইল ও মথুরাপাড়া গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন। তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ধানের শীষে ভোট চান।

 

নানশ্রী মুদির বাজারের পথসভায় বিপুলসংখ্যক নারী কর্মীর উপস্থিতি দেখে তিনি বলেন, আমি দেশে-বিদেশে অনেক জনসভা দেখেছি, কিন্তু আজকের মতো নারীদের এমন অংশগ্রহণ বিরল। পুরুষরা কাজ করবে আর নারীরা বসে থাকবে— এভাবে কোনো জাতির উন্নতি হয় না। দেশের যেকোনো কাজে মা-বোনদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

 

নিজের রাজনৈতিক যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার পিতা ড. ওসমান গনি বলতেন— বিদেশে যত বড় চাকরিই করো, শেষ জীবনটা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাবে। আমি বিশ্বব্যাংকে চাকরি করতাম। জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

 

বিএনপি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির উদ্দেশ্য আপামর জনসাধারণের উন্নতি। অন্য দলও একথা বলে, তবে আমি মনে করি জনমানুষের কাজে আমরা এগিয়ে। আনুগত্য নয়— দেশের উন্নয়নে যারা বেশি অবদান রাখতে পারবে, তাদের পক্ষে আপনারা সমর্থন দিন।

 

গণসংযোগ ও পথসভায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, সাবেক সহ-সভাপতি জালাল মোহাম্মদ গাউস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলাল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান দুলাল শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফীউজ্জামান শফী, করিমগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফ হোসেন পাভেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসাইন খান পল্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুখছেদুল মমিন সবুজ, মো. আলমগীর হোসেন আলমসহ দলের নেতাকর্মীরা।