ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

blank

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সের অর্থ গণনা করে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।

আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে অর্থ গণনা শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ কার্যক্রম শেষ হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে গণনায় পাওয়া অর্থের পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৩ ভরি ১৩ আনা রূপা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি, থাইল্যান্ডের ২০ বাথ, সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, কাতারের ১৭ রিয়াল, ৭ দশমিক ৩৩ ইউরো এবং হংকংয়ের ১০ ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় অর্থ গণনা করে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তারও আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের অর্থ গণনা করে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা পাওয়া যায়। সে সময় বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি পাউন্ড, ডলার, রিয়াল, রুপি ও দিরহামসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছিল।

গত ২২ জুন প্রথম দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের অর্থ গণনা করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ওই অর্থ ছিল চার দিনের দান। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় গণনা করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়। গণনায় পাওয়া এসব অর্থ জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

এর আগে ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সে সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।

এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সে সময় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। কেউ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নতুন দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে সরকার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়।

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভায় ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

জনপ্রিয় খবর
blank

সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

প্রকাশের সময় : ৫৫ মিনিট আগে
blank

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সের অর্থ গণনা করে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।

আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে অর্থ গণনা শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ কার্যক্রম শেষ হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে গণনায় পাওয়া অর্থের পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৩ ভরি ১৩ আনা রূপা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি, থাইল্যান্ডের ২০ বাথ, সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, কাতারের ১৭ রিয়াল, ৭ দশমিক ৩৩ ইউরো এবং হংকংয়ের ১০ ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় অর্থ গণনা করে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তারও আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের অর্থ গণনা করে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা পাওয়া যায়। সে সময় বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি পাউন্ড, ডলার, রিয়াল, রুপি ও দিরহামসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছিল।

গত ২২ জুন প্রথম দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের অর্থ গণনা করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ওই অর্থ ছিল চার দিনের দান। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় গণনা করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়। গণনায় পাওয়া এসব অর্থ জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

এর আগে ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সে সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।

এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সে সময় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। কেউ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নতুন দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে সরকার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়।

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভায় ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।