ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অভাব-অনটন ও শারীরিক অসুস্থতাকে জয় করে এসএসসিতে ১১৬৭ নম্বর

ভ্যানচালক বাবার স্বপ্নপূরণ, রাজশাহী বোর্ডে মানবিকে প্রথম গুরুদাসপুরের সাহাদত

blank

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চর পিপলা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মো. মেরাজুল আলী। দিনভর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। নিজের জীবনে অভাব-অনটনের শেষ নেই, তবু সন্তানদের শিক্ষার খরচ জোগাতে কখনো পিছপা হননি তিনি। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে চেয়েছেন, তাঁর সন্তানেরা শিক্ষিত হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে, একদিন সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করবে।

সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এবার বড় এক সাফল্য এনে দিয়েছে তাঁর ছোট ছেলে মো. সাহাদৎ হোসেন। দারিদ্র্য আর শারীরিক অসুস্থতার প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মানবিক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাহাদত পেয়েছে ১ হাজার ১৬৭ নম্বর।

ভ্যানের হ্যান্ডেলে বাবার ঘামঝরা শ্রম আর সন্তানের ভবিষ্যৎ ঘিরে তাঁর নিরন্তর স্বপ্ন—সাহাদতের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ গল্প। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তিন সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছেন মেরাজুল আলী। নিজের কষ্টকে আড়াল করে সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর সেই নিরলস পরিশ্রম আর সাহাদতের অধ্যবসায় আজ যেন সার্থকতার নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছে।

শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ সাহাদতের জন্য পড়াশোনার পথটিও ছিল চ্যালেঞ্জের। কিন্তু প্রতিকূলতাকে বাধা হিসেবে মেনে না নিয়ে নিজের লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টা চালিয়ে গেছে সে। মেধা, মনোযোগ ও অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে অর্জন করেছে এই অসাধারণ ফলাফল।

সাহাদতের এই সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগে প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব শুধু তার পরিবারের মুখেই হাসি ফোটায়নি, গর্বিত করেছে পুরো এলাকাকে।

একজন ভ্যানচালক বাবার কাছে এই অর্জন কেবল পরীক্ষার ফল নয়; এটি তাঁর ঘামঝরা পরিশ্রম, ত্যাগ আর বুকের গভীরে লালন করা স্বপ্নের প্রতিদান। যে বাবা প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন, সেই বাবার সন্তানই আজ নিজের মেধা দিয়ে উজ্জ্বল করেছে পরিবারের নাম।

সাহাদতের গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের পথে দারিদ্র্য কিংবা শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও পরিবারের ত্যাগ মানুষকে পৌঁছে দিতে পারে সাফল্যের শিখরে। এখন সাহাদতের স্বপ্ন আরও দূর এগিয়ে যাওয়া—উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করা।

মেরাজুল আলীর ভ্যানের চাকা হয়তো প্রতিদিন ঘুরবে জীবিকার তাগিদে, কিন্তু সেই চাকার সঙ্গে ঘুরতে থাকা তাঁর স্বপ্ন আজ নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে ছেলের সাফল্যে।

জনপ্রিয় খবর
blank

রংপুর-রাজশাহী সফর শেষে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অভাব-অনটন ও শারীরিক অসুস্থতাকে জয় করে এসএসসিতে ১১৬৭ নম্বর

ভ্যানচালক বাবার স্বপ্নপূরণ, রাজশাহী বোর্ডে মানবিকে প্রথম গুরুদাসপুরের সাহাদত

প্রকাশের সময় : ১৬ ঘন্টা আগে
blank

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চর পিপলা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মো. মেরাজুল আলী। দিনভর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। নিজের জীবনে অভাব-অনটনের শেষ নেই, তবু সন্তানদের শিক্ষার খরচ জোগাতে কখনো পিছপা হননি তিনি। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে চেয়েছেন, তাঁর সন্তানেরা শিক্ষিত হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে, একদিন সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করবে।

সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এবার বড় এক সাফল্য এনে দিয়েছে তাঁর ছোট ছেলে মো. সাহাদৎ হোসেন। দারিদ্র্য আর শারীরিক অসুস্থতার প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মানবিক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাহাদত পেয়েছে ১ হাজার ১৬৭ নম্বর।

ভ্যানের হ্যান্ডেলে বাবার ঘামঝরা শ্রম আর সন্তানের ভবিষ্যৎ ঘিরে তাঁর নিরন্তর স্বপ্ন—সাহাদতের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ গল্প। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তিন সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছেন মেরাজুল আলী। নিজের কষ্টকে আড়াল করে সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর সেই নিরলস পরিশ্রম আর সাহাদতের অধ্যবসায় আজ যেন সার্থকতার নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছে।

শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ সাহাদতের জন্য পড়াশোনার পথটিও ছিল চ্যালেঞ্জের। কিন্তু প্রতিকূলতাকে বাধা হিসেবে মেনে না নিয়ে নিজের লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টা চালিয়ে গেছে সে। মেধা, মনোযোগ ও অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে অর্জন করেছে এই অসাধারণ ফলাফল।

সাহাদতের এই সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগে প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব শুধু তার পরিবারের মুখেই হাসি ফোটায়নি, গর্বিত করেছে পুরো এলাকাকে।

একজন ভ্যানচালক বাবার কাছে এই অর্জন কেবল পরীক্ষার ফল নয়; এটি তাঁর ঘামঝরা পরিশ্রম, ত্যাগ আর বুকের গভীরে লালন করা স্বপ্নের প্রতিদান। যে বাবা প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন, সেই বাবার সন্তানই আজ নিজের মেধা দিয়ে উজ্জ্বল করেছে পরিবারের নাম।

সাহাদতের গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের পথে দারিদ্র্য কিংবা শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও পরিবারের ত্যাগ মানুষকে পৌঁছে দিতে পারে সাফল্যের শিখরে। এখন সাহাদতের স্বপ্ন আরও দূর এগিয়ে যাওয়া—উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করা।

মেরাজুল আলীর ভ্যানের চাকা হয়তো প্রতিদিন ঘুরবে জীবিকার তাগিদে, কিন্তু সেই চাকার সঙ্গে ঘুরতে থাকা তাঁর স্বপ্ন আজ নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে ছেলের সাফল্যে।