নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লোকজ বাণিজ্যকেন্দ্র ‘মৌখাড়া হাট’। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার বসায় এই হাটকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে থাকে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা। আবহমান গ্রামবাংলার নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব উপকরণের সমাহার ঘটলেও বর্তমানে হাটটিতে দেখা যাচ্ছে মিষ্টি ও সুস্বাদু আখের ব্যাপক সমারোহ। এ অঞ্চলে যার অন্য নাম ” কুশাল” “কুশিল” ।
শুক্রবার হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটের ভেতরের গলি ও রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে বিশাল বিশাল আখের আঁটি। লাল ও হলদে রঙের তাজা আখের পসরা সাজিয়ে বসেছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাষি ও মৌসুমি বিক্রেতারা। রসালো আখের স্বাদ নিতে এবং পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যেতে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় বাজারেই আখের ভালো চাহিদা দেখা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌখাড়া হাট মূলত ওই এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সপ্তাহে কেবল এক দিন বাদেও এই হাটে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। তাজা মাছ-মাংস, খেতের টাটকা শাকসবজি, গৃহস্থালি পণ্য, মনোহারী সামগ্রী থেকে শুরু করে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর এক বিশাল বাজার বসে এখানে।তবে চলনবিল সংলগ্ন এই অঞ্চলে আখের মৌসুমে মৌখাড়া হাটে আখের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের বাড়তি কোলাহল হাটে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
হাটে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, মৌখাড়া হাটের আখের গুণগত মান ও স্বাদ অত্যন্ত ভালো। একই স্থানে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব কেনাকাটা সাশ্রয়ী দামে করার পাশাপাশি পছন্দের আখ কেনা যায় বলেই শুক্রবারের এই হাটের জন্য তাঁরা মুখিয়ে থাকেন। অন্যদিকে, সুষম বাজারদর পাওয়ায় চাষি ও বিক্রেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কালের পরিক্রমায় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এলেও বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাট আজও তার লোকজ জৌলুস ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে সগৌরবে। প্রতি শুক্রবারের এই কেনাবেচা কেবল কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা যেন পরিণত হয় স্থানীয় জনমানুষের এক মিলনমেলায়।

শুভ্র কুমার সাহা, স্টাফ রিপোর্টার 

















