ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে বাদীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিন কারাভোগ করতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আলফাডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলাটি করেন শাহীনা বেগম। মামলায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার যোগীবরাটি গ্রামের সাগর মোল্লা (২২) ও ইকরামুল মোল্লা (২০)–কে আসামি করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। তাঁদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হয়রানির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ঘটনার দিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে যৌন হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।
প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটি মিথ্যা বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। এরপর মামলার দুই আসামিকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে বাদীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিন কারাগারে থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে বাদীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিন কারাভোগ করতে হবে।

অনলাইন ডেস্ক 


















