ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন গুরুদাসপুরের ছাত্রদল নেতা শাকিল

blank

নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (২৩) মারা গেছেন। ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর রাতে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তাঁর মৃত্যু হলো।

শাকিলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ ও গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান। ইসরাফিল শেখ জানান, দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

নিহত শাকিল নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা রবিউল মিস্ত্রি।

গত ১৪ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন শাকিল। হামলাকারীরা তাঁকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন শাকিল ইসলাম বলেছিলেন, রাত নয়টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বাজারপাড়া এলাকার নুর একাডেমির কাছে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলি থেকে বাঁচতে তিনি দৌড় দেন। গুলি তাঁর শরীরে না লাগায় দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে ধাওয়া করে।

শাকিল আরও বলেছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সুমন রহমান বলেন, বাজারপাড়ার শহীদা জলিল স্কুলের কাছে পরপর দুটি গুলির শব্দ শুনতে পান তাঁরা। এগিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা শাকিলকে দৌড়ে যেতে দেখেন। তাঁর পেছনে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি ধাওয়া করছিলেন। কিছুক্ষণ পর রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের ফিরে যেতে দেখেন তিনি। এ সময় শহীদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে শাকিলকে চিৎকার করতে শোনা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান।

হামলার পর গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ওই রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নওশিন জাহান বলেন, হামলার দিন গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ জানান, হামলার রাতেই শাকিলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে অন্তত পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের কিডনি কাজ করছিল না। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। সবশেষ সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুদাসপুর থানার ওসি আবদুল হান্নান বলেন, শাকিলের বাবার দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের খুব কাছাকাছি পুলিশ পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় খবর
blank

শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীকে গ্রামছাড়া

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন গুরুদাসপুরের ছাত্রদল নেতা শাকিল

প্রকাশের সময় : ১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
blank

নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (২৩) মারা গেছেন। ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর রাতে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তাঁর মৃত্যু হলো।

শাকিলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ ও গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান। ইসরাফিল শেখ জানান, দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

নিহত শাকিল নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা রবিউল মিস্ত্রি।

গত ১৪ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন শাকিল। হামলাকারীরা তাঁকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন শাকিল ইসলাম বলেছিলেন, রাত নয়টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বাজারপাড়া এলাকার নুর একাডেমির কাছে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলি থেকে বাঁচতে তিনি দৌড় দেন। গুলি তাঁর শরীরে না লাগায় দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে ধাওয়া করে।

শাকিল আরও বলেছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সুমন রহমান বলেন, বাজারপাড়ার শহীদা জলিল স্কুলের কাছে পরপর দুটি গুলির শব্দ শুনতে পান তাঁরা। এগিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা শাকিলকে দৌড়ে যেতে দেখেন। তাঁর পেছনে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি ধাওয়া করছিলেন। কিছুক্ষণ পর রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের ফিরে যেতে দেখেন তিনি। এ সময় শহীদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে শাকিলকে চিৎকার করতে শোনা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান।

হামলার পর গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ওই রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নওশিন জাহান বলেন, হামলার দিন গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ জানান, হামলার রাতেই শাকিলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে অন্তত পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের কিডনি কাজ করছিল না। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। সবশেষ সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুদাসপুর থানার ওসি আবদুল হান্নান বলেন, শাকিলের বাবার দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের খুব কাছাকাছি পুলিশ পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।