ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নকল হাতকড়া, ওয়াকিটকি ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মধ্যেপাড়া গ্রাম থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ওই এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করে একটি চক্র। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় একই এলাকায় কয়েকজন যুবক আবারও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকলে বিষয়টি নজরে আসে। ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে এলাকাবাসী তাদের পরিচয় জানতে চাইলে একজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ভুয়া ডিবি পরিচয়ে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তাদের ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত নকল হাতকড়া, ওয়াকিটকি ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ত্রিশাল উপজেলার সতেরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (২৭), ধরিলা মধ্যপাড়ার হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবুল হাসান রনি (২৪), ছলিমপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৫), একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) এবং ফুলবাড়ীয়া পৌর এলাকার মতিনের ছেলে সরোয়ার আলম (২১)।
ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ময়মনসিংহ জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এস এ হাসিব, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 





















