আসসালামু আলাইকুম।
আমি এই অঞ্চলের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বৃহত্তর বড়াইগ্রাম ও বনপাড়া এলাকার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি আপনাদের দৃষ্টিগোচর করতে চাই।
নাটোর জেলার অন্যতম বৃহৎ উপজেলা বড়াইগ্রাম। আয়তন, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রশাসনিক কাঠামোর অসামঞ্জস্যতার কারণে এখানকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বর্তমানে বড়াইগ্রাম থানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বড়াইগ্রাম সদরে, অন্যদিকে উপজেলা পরিষদসহ অধিকাংশ প্রশাসনিক দপ্তর অবস্থিত বনপাড়ায়। ফলে নাগরিকদের একটি কাজের জন্য বনপাড়ায় এবং অন্য কাজের জন্য বড়াইগ্রাম সদরে যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয়ের পাশাপাশি সেবাপ্রাপ্তি জটিল ও দুরূহ হয়ে উঠেছে।
আমাদের দাবির পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি—
১. জনসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা:
একই উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র ভিন্ন স্থানে হওয়ায় সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়। পৃথক উপজেলা গঠিত হলে নাগরিক সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকর হবে।
২. প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি:
বিশাল জনসংখ্যা ও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকার কারণে বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কার্যকর তদারকি ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দুটি পৃথক উপজেলা গঠিত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক হবে।
৩. সমতাভিত্তিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি:
বনপাড়া ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বড়াইগ্রামের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রশাসনিক গুরুত্ব। পৃথক উপজেলা হলে উভয় অঞ্চলই তাদের নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
৪. দীর্ঘদিনের জনআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন:
বড়াইগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা এবং বনপাড়াকে পৃথক উপজেলা ঘোষণার দাবি নতুন নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের প্রাণের দাবি হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন এ দাবিতে আন্দোলন ও মতপ্রকাশ করেছে।
মাননীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ,
আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নের অগ্রসৈনিক। আমরা বিশ্বাস করি, জনস্বার্থে আপনারা এই ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং জাতীয় সংসদ ও সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন।
আমাদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে বড়াইগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে পুনর্গঠন এবং বনপাড়াকে পৃথক উপজেলা ঘোষণার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন নতুন গতি পাবে।
জনগণের প্রাণের দাবি—
“বড়াইগ্রাম পূর্ণাঙ্গ উপজেলা চাই, বনপাড়া পৃথক উপজেলা চাই।”
______________________________
লেখকঃ সংগঠক, পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী
সদস্য, বড়াইগ্রাম ও বনপাড়া পৃথক উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলন

ডি.এম আলম 











