ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার জেরে স্ত্রী-সন্তানসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগ: বড়াইগ্রামে স্বামী ও প্রেমিকার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

blank

নাটোরের বড়াইগ্রামে আগুনে পুড়ে এক নারী, তার দুই সন্তান ও এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ ওলি পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার কয়েক মাস পর তিনি কথিত প্রেমিকা রেখা খাতুনকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে সংসার শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

মঙ্গলবার খাকসা গ্রামবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অভিযুক্ত মোহাম্মদ ওলি ও রেখা খাতুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, অভিযুক্তের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন, যুবদল নেতা মোজাম্মেল হক বাটুল, সমাজসেবক জরিপ মণ্ডল, মধু প্রামাণিক ও আব্দুস সামাদ।

বক্তারা জানান, ২০২৩ সালের ৭ মার্চ রাতে রাজ্জাক মোড়ে একটি জ্বালানিবাহী লরি দুর্ঘটনায় উল্টে গেলে সেখান থেকে অকটেন সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যান মোহাম্মদ ওলি। এর কিছু সময় পর তার ঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তার স্ত্রী সুমা খাতুন (৩২), মেয়ে অমিয়া আফরিন মাহী (১০) ও ছেলে ওমর ফারুক (৪) নিহত হন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে দগ্ধ হন ওলির বন্ধু আনোয়ার হোসেন, যিনি পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তাদের দাবি, একই ঘরে অবস্থান করলেও মোহাম্মদ ওলি অক্ষত থাকায় শুরু থেকেই ঘটনার রহস্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল। পরবর্তীতে তার কথিত পরকীয়া সম্পর্ক এবং প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা ও আচরণ থেকে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে তারা অভিযোগ করেন।

তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৫: রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত নাটোরের আসমা শাহীন

পরকীয়ার জেরে স্ত্রী-সন্তানসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগ: বড়াইগ্রামে স্বামী ও প্রেমিকার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের সময় : ১০ ঘন্টা আগে
blank

নাটোরের বড়াইগ্রামে আগুনে পুড়ে এক নারী, তার দুই সন্তান ও এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ ওলি পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার কয়েক মাস পর তিনি কথিত প্রেমিকা রেখা খাতুনকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে সংসার শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

মঙ্গলবার খাকসা গ্রামবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অভিযুক্ত মোহাম্মদ ওলি ও রেখা খাতুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, অভিযুক্তের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন, যুবদল নেতা মোজাম্মেল হক বাটুল, সমাজসেবক জরিপ মণ্ডল, মধু প্রামাণিক ও আব্দুস সামাদ।

বক্তারা জানান, ২০২৩ সালের ৭ মার্চ রাতে রাজ্জাক মোড়ে একটি জ্বালানিবাহী লরি দুর্ঘটনায় উল্টে গেলে সেখান থেকে অকটেন সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যান মোহাম্মদ ওলি। এর কিছু সময় পর তার ঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তার স্ত্রী সুমা খাতুন (৩২), মেয়ে অমিয়া আফরিন মাহী (১০) ও ছেলে ওমর ফারুক (৪) নিহত হন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে দগ্ধ হন ওলির বন্ধু আনোয়ার হোসেন, যিনি পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তাদের দাবি, একই ঘরে অবস্থান করলেও মোহাম্মদ ওলি অক্ষত থাকায় শুরু থেকেই ঘটনার রহস্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল। পরবর্তীতে তার কথিত পরকীয়া সম্পর্ক এবং প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা ও আচরণ থেকে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে তারা অভিযোগ করেন।

তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”