ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ২

blank

রাজধানীর কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়ায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক মোটরসাইকেল আরোহীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. পারভেজ (৩০) ও আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। এ মামলার অপর দুই আসামি মো. ফয়সাল ওরফে কালু এবং আমিন এখনও পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত ১০ জুন রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে ইব্রাহিমপুর পাকা সড়কে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন রাফি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় তার মাথার ডান পাশে ইট ছুড়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন।

ঘটনার পর হামলাকারীরা আহত রাফিকে একটি অটোরিকশায় তুলে অন্যত্র নিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

blank

এ ঘটনায় আহত রাফির চাচা নুর হোসেন কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চারজনকে শনাক্ত করে।

তদন্তের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন বাবুকেও আটক করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলের কাছ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাফির মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, পারভেজ একসময় রাফির বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। পরে পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে রাফি এর প্রতিবাদ ও বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হুমকির ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন রাতে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।

ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, হামলার পর আসামিরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে। তারা স্থানীয়দের কাছে দাবি করে যে ওপর থেকে পড়ে যাওয়া ইটের আঘাতে রাফি আহত হয়েছেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে অন্যত্র ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ এবং পলাতক কালুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

জনপ্রিয় খবর
blank

রাজশাহী বিভাগে গল্প বলায় শ্রেষ্ঠ চাটমোহরের জয়িতা

শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
blank

রাজধানীর কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়ায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক মোটরসাইকেল আরোহীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. পারভেজ (৩০) ও আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। এ মামলার অপর দুই আসামি মো. ফয়সাল ওরফে কালু এবং আমিন এখনও পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত ১০ জুন রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে ইব্রাহিমপুর পাকা সড়কে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন রাফি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় তার মাথার ডান পাশে ইট ছুড়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন।

ঘটনার পর হামলাকারীরা আহত রাফিকে একটি অটোরিকশায় তুলে অন্যত্র নিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

blank

এ ঘটনায় আহত রাফির চাচা নুর হোসেন কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চারজনকে শনাক্ত করে।

তদন্তের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন বাবুকেও আটক করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলের কাছ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাফির মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, পারভেজ একসময় রাফির বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। পরে পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে রাফি এর প্রতিবাদ ও বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হুমকির ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন রাতে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।

ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, হামলার পর আসামিরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে। তারা স্থানীয়দের কাছে দাবি করে যে ওপর থেকে পড়ে যাওয়া ইটের আঘাতে রাফি আহত হয়েছেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে অন্যত্র ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ এবং পলাতক কালুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।