ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসের টিকিট নিয়ে বিরোধ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

blank

মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ভুরঘাটা এলাকায় লোকাল বাসের টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভুরঘাটা এলাকার প্রায় ১০টি দোকান ভাঙচুর করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার এমারত ঘরামী বরিশালে যাওয়ার জন্য ভুরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। অসুস্থ থাকায় তিনি সামনের আসনে বসতে চেয়েছিলেন। তবে কাউন্টারের সুপারভাইজার ওই আসন দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে এমারতের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির পাশের একটি মুদিদোকান থেকে এসে এমারতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এমারত ওই বাস কাউন্টারে গেলে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় সবুজ ও আকাশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, গৌরনদীর খানজাপুর এলাকার ফিরোজ কাজী, এনামুল তালুকদার, কামাল ফকির ও বাবলু মুন্সিকে সঙ্গে নিয়ে বাঁশ ব্যবসায়ী হাবুল ঘরামীকে তুলে আনতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর দুই উপজেলার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ভুরঘাটা এলাকার প্রায় ১০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধটি সমাধানের চেষ্টা চলছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

কলাপাড়ায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বুলিং, কোচিং বাণিজ্য এবং পাঠদানে অবহেলার অভিযোগ।

বাসের টিকিট নিয়ে বিরোধ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

প্রকাশের সময় : ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
blank

মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ভুরঘাটা এলাকায় লোকাল বাসের টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভুরঘাটা এলাকার প্রায় ১০টি দোকান ভাঙচুর করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার এমারত ঘরামী বরিশালে যাওয়ার জন্য ভুরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। অসুস্থ থাকায় তিনি সামনের আসনে বসতে চেয়েছিলেন। তবে কাউন্টারের সুপারভাইজার ওই আসন দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে এমারতের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির পাশের একটি মুদিদোকান থেকে এসে এমারতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এমারত ওই বাস কাউন্টারে গেলে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় সবুজ ও আকাশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, গৌরনদীর খানজাপুর এলাকার ফিরোজ কাজী, এনামুল তালুকদার, কামাল ফকির ও বাবলু মুন্সিকে সঙ্গে নিয়ে বাঁশ ব্যবসায়ী হাবুল ঘরামীকে তুলে আনতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর দুই উপজেলার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ভুরঘাটা এলাকার প্রায় ১০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধটি সমাধানের চেষ্টা চলছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।