ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরলেন পর্যটকেরা

blank

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের গাড়িবহর খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো শহরে পৌঁছায়। এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারা সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধের মুখে পড়লেও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান তারা।

পর্যটকেরা জানান, সাজেকে চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। ফেরার পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে এ ঘটনায় পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, তারা দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার সাজেকে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছে সন্ধ্যায় আন্দোলনের খবর পান। পরে বৃহস্পতিবার তাদের সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দেওয়ায় এখন ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। পাশাপাশি ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের হওয়ায় বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

অয়ন নামে আরেক পর্যটক জানান, সেনাবাহিনীর পাহারায় পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধাঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং সড়কে ভাঙা ইট ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

হবিগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক অপু বলেন, সাজেকে বেড়াতে গিয়ে আন্দোলনের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে পারেননি। সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের খবর শুনে নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে দুই হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।

সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। সংগঠন দুটি পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত বলে প্রচার রয়েছে। তাদের দাবি, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দিতে হবে। ওই সদস্যদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকে ভ্রমণ করতে যাওয়া পর্যটকদের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। অনেককে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া ও ফেরার বাসের টিকিট নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

জনপ্রিয় খবর
blank

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল, দুই অটোরিকশা যাত্রীর

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরলেন পর্যটকেরা

প্রকাশের সময় : ৫৮ মিনিট আগে
blank

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের গাড়িবহর খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো শহরে পৌঁছায়। এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারা সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধের মুখে পড়লেও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান তারা।

পর্যটকেরা জানান, সাজেকে চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। ফেরার পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে এ ঘটনায় পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, তারা দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার সাজেকে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছে সন্ধ্যায় আন্দোলনের খবর পান। পরে বৃহস্পতিবার তাদের সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দেওয়ায় এখন ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। পাশাপাশি ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের হওয়ায় বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

অয়ন নামে আরেক পর্যটক জানান, সেনাবাহিনীর পাহারায় পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধাঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং সড়কে ভাঙা ইট ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

হবিগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক অপু বলেন, সাজেকে বেড়াতে গিয়ে আন্দোলনের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে পারেননি। সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের খবর শুনে নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে দুই হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।

সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। সংগঠন দুটি পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত বলে প্রচার রয়েছে। তাদের দাবি, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দিতে হবে। ওই সদস্যদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকে ভ্রমণ করতে যাওয়া পর্যটকদের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। অনেককে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া ও ফেরার বাসের টিকিট নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।