ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়ম ভাঙার দৌড়ে রাইড শেয়ারিং

blank

যাত্রীসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হলেও আট বছর পরও এর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে যাত্রী নিরাপত্তা, সেবার মান, ভাড়া নির্ধারণ ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে বিআরটিএর অনুমোদন, নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত যানবাহন, বৈধ লাইসেন্সধারী চালক, জিপিএস ট্র্যাকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, জরুরি (এসওএস) সুবিধা, চালকদের প্রশিক্ষণ, অনলাইনে অভিযোগ নিষ্পত্তি, যাত্রার তথ্য সংরক্ষণ এবং বিআরটিএর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে এসবের বড় অংশই কার্যকর হয়নি।

যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক চালক অ্যাপে নির্ধারিত ভাড়ায় যেতে রাজি হন না এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। অনেকেই অ্যাপ বন্ধ রেখে সরাসরি যাত্রী বহন করেন, যা নীতিমালার পরিপন্থী। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানও যানজট বাড়াচ্ছে।

ব্যবহারকারীরা আরও অভিযোগ করেন, চালকদের অসদাচরণ, নারী যাত্রীদের হয়রানি, কার্যকর জরুরি সহায়তা না থাকা এবং ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো এখনো সমাধান হয়নি।

দীর্ঘদিন রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চালকের ভাষ্য, বিভিন্ন কারণে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই অ্যাপ ব্যবহার ছেড়ে সরাসরি যাত্রী পরিবহন করছেন। তাঁদের দাবি, কোম্পানিগুলোর একতরফা নীতির কারণে চালকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

রাইড শেয়ারিং চালকদের সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, নীতিমালায় চালক, মালিক ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা থাকলেও বাস্তবে শুধু অনলাইনের শর্তে সম্মতি নিয়েই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কমিশনের হার, ভাড়া নির্ধারণ এবং চালকদের অধিকার নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সংস্থাটির তালিকায় ১৯টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান থাকলেও সক্রিয়ভাবে সেবা দিচ্ছে মাত্র তিন থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৩৫ হাজার নিবন্ধিত যানবাহনের মধ্যে অধিকাংশই উবার ও পাঠাওয়ের আওতায় রয়েছে। বিআরটিএ আরও জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব, চালকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি, বিদেশে তথ্য সংরক্ষণ এবং নীতিমালার দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে রাইড শেয়ারিং খাত কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। তাঁদের মতে, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিমালা হালনাগাদ, কার্যকর নজরদারি, যাত্রী ও চালকদের অধিকার নিশ্চিত এবং তথ্য সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, রাইড শেয়ারিং নীতিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে। সময়োপযোগী পরিবর্তনের মাধ্যমে খাতটিকে আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নীতিমালা না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর তদারকি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে রাইড শেয়ারিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নে উচ্চপর্যায়ের সভা

নিয়ম ভাঙার দৌড়ে রাইড শেয়ারিং

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

যাত্রীসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হলেও আট বছর পরও এর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে যাত্রী নিরাপত্তা, সেবার মান, ভাড়া নির্ধারণ ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে বিআরটিএর অনুমোদন, নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত যানবাহন, বৈধ লাইসেন্সধারী চালক, জিপিএস ট্র্যাকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, জরুরি (এসওএস) সুবিধা, চালকদের প্রশিক্ষণ, অনলাইনে অভিযোগ নিষ্পত্তি, যাত্রার তথ্য সংরক্ষণ এবং বিআরটিএর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে এসবের বড় অংশই কার্যকর হয়নি।

যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক চালক অ্যাপে নির্ধারিত ভাড়ায় যেতে রাজি হন না এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। অনেকেই অ্যাপ বন্ধ রেখে সরাসরি যাত্রী বহন করেন, যা নীতিমালার পরিপন্থী। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানও যানজট বাড়াচ্ছে।

ব্যবহারকারীরা আরও অভিযোগ করেন, চালকদের অসদাচরণ, নারী যাত্রীদের হয়রানি, কার্যকর জরুরি সহায়তা না থাকা এবং ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো এখনো সমাধান হয়নি।

দীর্ঘদিন রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চালকের ভাষ্য, বিভিন্ন কারণে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই অ্যাপ ব্যবহার ছেড়ে সরাসরি যাত্রী পরিবহন করছেন। তাঁদের দাবি, কোম্পানিগুলোর একতরফা নীতির কারণে চালকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

রাইড শেয়ারিং চালকদের সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, নীতিমালায় চালক, মালিক ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা থাকলেও বাস্তবে শুধু অনলাইনের শর্তে সম্মতি নিয়েই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কমিশনের হার, ভাড়া নির্ধারণ এবং চালকদের অধিকার নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সংস্থাটির তালিকায় ১৯টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান থাকলেও সক্রিয়ভাবে সেবা দিচ্ছে মাত্র তিন থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৩৫ হাজার নিবন্ধিত যানবাহনের মধ্যে অধিকাংশই উবার ও পাঠাওয়ের আওতায় রয়েছে। বিআরটিএ আরও জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব, চালকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি, বিদেশে তথ্য সংরক্ষণ এবং নীতিমালার দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে রাইড শেয়ারিং খাত কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। তাঁদের মতে, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিমালা হালনাগাদ, কার্যকর নজরদারি, যাত্রী ও চালকদের অধিকার নিশ্চিত এবং তথ্য সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, রাইড শেয়ারিং নীতিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে। সময়োপযোগী পরিবর্তনের মাধ্যমে খাতটিকে আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নীতিমালা না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর তদারকি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে রাইড শেয়ারিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।