ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

blank

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

সরকার জানায়, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন সূচনার প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এ উদ্বেগ আগে থেকেই ভারত সরকারকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে, তখন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অসম্মানজনক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা ইতিহাস বিকৃত করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং কোনোভাবেই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান হবে না বলেও সরকার উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার জানায়, তারা ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ বারবার জানানো হলেও ভারত এখনো এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বরং তাঁকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সরকার মনে করছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন। গত দুই বছর ধরে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং এর আগে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও বার্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেও দিল্লির কোনো অনুষ্ঠানে এটাই ছিল তাঁর প্রথম সরাসরি অনলাইন অংশগ্রহণ।

এর আগে, ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন। একই বিষয়ে ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

ভারতীয়রা বিশাল ক্ষতির মুখে: শশী থারুর

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ৫ ঘন্টা আগে
blank

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

সরকার জানায়, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন সূচনার প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এ উদ্বেগ আগে থেকেই ভারত সরকারকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে, তখন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অসম্মানজনক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা ইতিহাস বিকৃত করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং কোনোভাবেই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান হবে না বলেও সরকার উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার জানায়, তারা ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ বারবার জানানো হলেও ভারত এখনো এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বরং তাঁকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সরকার মনে করছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন। গত দুই বছর ধরে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং এর আগে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও বার্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেও দিল্লির কোনো অনুষ্ঠানে এটাই ছিল তাঁর প্রথম সরাসরি অনলাইন অংশগ্রহণ।

এর আগে, ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন। একই বিষয়ে ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।