ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় ৫৪৮ ছাত্রী পেলেন সাইকেল, চক্ষুসেবা ৪ হাজার মানুষকে

blank

কেক কেটে উৎসব নয়, বরং শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া এবং অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।

আজ বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪ হাজার অসহায় মানুষকে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়েছে। শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নেওয়া এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নারীশিক্ষার প্রসার, ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় উৎসাহিত করা। আয়োজকদের আশা, সাইকেল পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়বে।

একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়।

সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলেও পালন করেছেন তিনি। সে সময় দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের কল্যাণে কাজ করাই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সাইকেল বিতরণের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নারীশিক্ষার উন্নয়নই এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, দলটি ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে এবং যারা তাদের কথায় বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা এখন অনুতপ্ত। তাঁর ভাষ্য, ভোটের সময় ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হলেও নির্বাচন শেষে তাদের আর পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি। মুসলমানদের বেহেশতের প্রলোভন দেখানোও বন্ধ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মীর শাহে আলম আরও বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করলেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বিষয়ে তারা চিন্তা করে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের কথা ভেবেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

নিজের নির্বাচনী এলাকার চক্ষুসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চান তিনি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আক্তার, রুপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাতসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।

জনপ্রিয় খবর
blank

নদী আছে,ব্রিজ নেই-দুর্ভোগে দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ

জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় ৫৪৮ ছাত্রী পেলেন সাইকেল, চক্ষুসেবা ৪ হাজার মানুষকে

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

কেক কেটে উৎসব নয়, বরং শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া এবং অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।

আজ বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪ হাজার অসহায় মানুষকে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়েছে। শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নেওয়া এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নারীশিক্ষার প্রসার, ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় উৎসাহিত করা। আয়োজকদের আশা, সাইকেল পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়বে।

একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়।

সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলেও পালন করেছেন তিনি। সে সময় দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের কল্যাণে কাজ করাই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সাইকেল বিতরণের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নারীশিক্ষার উন্নয়নই এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, দলটি ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে এবং যারা তাদের কথায় বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা এখন অনুতপ্ত। তাঁর ভাষ্য, ভোটের সময় ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হলেও নির্বাচন শেষে তাদের আর পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি। মুসলমানদের বেহেশতের প্রলোভন দেখানোও বন্ধ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মীর শাহে আলম আরও বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করলেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বিষয়ে তারা চিন্তা করে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের কথা ভেবেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

নিজের নির্বাচনী এলাকার চক্ষুসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চান তিনি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আক্তার, রুপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাতসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।