ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোথায় যাবে খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির

blank

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘি থেকে উদ্ধার করা মাদি কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কুমিরটিকে সাফারি পার্ক বা অন্য কোনো উপযুক্ত আবাসস্থলে স্থানান্তরের প্রস্তাব গত মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে বন বিভাগ। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

এদিকে মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দিঘিতে দুটি কুমির দেওয়ার আবেদনও বন বিভাগের কাছে পৌঁছেছে। গত বছরের আগস্টে করা ওই আবেদন আইন অনুযায়ী মতামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এসব তথ্য জানান বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল।

তিনি জানান, বর্তমানে কুমিরটি খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। তবে এ ধরনের কেন্দ্রে দীর্ঘদিন বন্য প্রাণী রাখা সম্ভব নয়। তাই দ্রুত উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে বন সংরক্ষকের দপ্তরে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিরটিকে আবার মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন বা মাজার কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নতুন কোনো অনুরোধ জানায়নি। তবে গত বছরের আবেদন অনুযায়ী দুটি কুমির চাওয়া হয়েছিল। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বন্য প্রাণী পালনের অনুমতি দেওয়া হয় না। তাই বিষয়টি ঢাকার সংশ্লিষ্ট বন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধারের পর প্রায় দুই মাস কুমিরটি কোনো খাবার গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে বন বিভাগ অস্ট্রেলিয়ার কুমির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দী অবস্থায় কুমির দীর্ঘ সময় খাবার না খেলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং জোর করে খাওয়ানোরও দরকার হয় না।

ডিএফও নির্মল কুমার পাল বলেন, বন্দী অবস্থায় কুমির অনেক সময় কয়েক মাস, এমনকি এক থেকে দুই বছর পর্যন্তও খাবার ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর জননিরাপত্তার স্বার্থে ৩ জুন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ প্রায় ৪৫ বছর বয়সী মাদি কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

বন বিভাগের তথ্যমতে, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি।

বাংলাদেশে মিঠাপানির কুমির সংরক্ষণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ২০০০ সালে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মিঠাপানির কুমির বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয় থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হওয়ায় সংরক্ষণ কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

ফুলবাড়ীয়ায় মাদক সেবনের দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

কোথায় যাবে খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘি থেকে উদ্ধার করা মাদি কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কুমিরটিকে সাফারি পার্ক বা অন্য কোনো উপযুক্ত আবাসস্থলে স্থানান্তরের প্রস্তাব গত মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে বন বিভাগ। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

এদিকে মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দিঘিতে দুটি কুমির দেওয়ার আবেদনও বন বিভাগের কাছে পৌঁছেছে। গত বছরের আগস্টে করা ওই আবেদন আইন অনুযায়ী মতামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এসব তথ্য জানান বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল।

তিনি জানান, বর্তমানে কুমিরটি খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। তবে এ ধরনের কেন্দ্রে দীর্ঘদিন বন্য প্রাণী রাখা সম্ভব নয়। তাই দ্রুত উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে বন সংরক্ষকের দপ্তরে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিরটিকে আবার মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন বা মাজার কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নতুন কোনো অনুরোধ জানায়নি। তবে গত বছরের আবেদন অনুযায়ী দুটি কুমির চাওয়া হয়েছিল। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বন্য প্রাণী পালনের অনুমতি দেওয়া হয় না। তাই বিষয়টি ঢাকার সংশ্লিষ্ট বন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধারের পর প্রায় দুই মাস কুমিরটি কোনো খাবার গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে বন বিভাগ অস্ট্রেলিয়ার কুমির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দী অবস্থায় কুমির দীর্ঘ সময় খাবার না খেলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং জোর করে খাওয়ানোরও দরকার হয় না।

ডিএফও নির্মল কুমার পাল বলেন, বন্দী অবস্থায় কুমির অনেক সময় কয়েক মাস, এমনকি এক থেকে দুই বছর পর্যন্তও খাবার ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর জননিরাপত্তার স্বার্থে ৩ জুন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ প্রায় ৪৫ বছর বয়সী মাদি কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

বন বিভাগের তথ্যমতে, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি।

বাংলাদেশে মিঠাপানির কুমির সংরক্ষণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ২০০০ সালে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মিঠাপানির কুমির বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয় থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হওয়ায় সংরক্ষণ কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।