ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভ্রমণ

বান্দরবান: দেবতাখুমের রূপে তিন দিনের গল্প

blank

বিয়াম, কক্সবাজারের ৩৯তম বিভাগীয় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যাচের সাথে ১৩-১৬ নভেম্বর চার দিনের বান্দরবান সফরে বের হয়েছিলাম, যদিও আমরা তিনদিন পরেই চলে এসেছি অফিসিয়াল ব্যস্ততার কারণে। যাহোক, আমার মেয়ে আনাবিয়া, আফতাব, আমার বাবা ও আমাদের ঘরের সাহায্যকারী— সবাই মিলে ব্যাচের সঙ্গে চলমান এই যাত্রা হয়ে উঠেছিল পরিবারের জন্য এক টুকরো উৎসব।

 

প্রথম দিন: নীলাচল থেকে মেঘলার বিকেল

 

১৩ নভেম্বর সকালে কক্সবাজার থেকে রওনা দিয়ে দুপুরে নীলাচলের জেলা প্রশাসনের রেস্টহাউজে পৌঁছাই। পাহাড়ঘেরা শান্ত পরিবেশে একটু বিশ্রামের পর রওনা হই রূপালী ঝরনার দিকে। ছোট্ট সাইফুল— আমাদের গাইড, সময় আন্দাজে ভুল করলেও আন্তরিকতায় ছিল সত্যি অনন্য। আর কতদূর কত সময় লাগবে, তাকে জিজ্ঞেস করা মাত্র সে বলছে  আর মাত্র আধাঘন্টা পথ। প্রতি ১০ মিনিট পর পর তার একই উত্তর। যাহোক,  ঝরনার কাছে সামান্য পানি থাকলেও হাঁটা পথের গল্পই ছিল মূল আকর্ষণ।

 

বিকেলে মেঘলায় ঘোরাঘুরি ও রাতে দর্শনার্থী বিহীন ফাঁকা  নীলাচলের সৌন্দর্য ছিলো অপরিসীম। সন্ধ্যায় নীলাম্বরীতে ব্যাচের র‍্যাফেল ড্র ও ডিনার ছিলো। এরপর সবাই মিলে আড্ডা ও নীলাচল থেকে বান্দরবান শহরের আলোকিত রূপ দেখতে দেখতে প্রথম দিনের সমাপ্তি ছিল। এ এক হাসিখুশি পাহাড়ি সন্ধ্যা।

blank

নীলাচলের সৌন্দর্য ভোরে সূর্য উঠার আগে ও পরে ছিলো অনন্য। তাই পরদিন ভোরে উঠে গিয়েছি আমরা। সাদা মেঘের ভেলা, সূর্য উদয় ও হালকা শীতের ঠান্ডা উপভোগ, ব্যান্ডিং জেলা প্রশাসন এর শপ থেকে আখের শরবত পান ও হালকা হ্যান্ডিক্যাফট শপিং করা- সব মিলিয়ে অসাধারণ এক সকাল কাটলো নীলাচলে।

 

 বান্দরবান ট্যুরের সেরা আকর্ষণ দেবতাখুম দর্শন 

 

সার্কিট হাউসে জিনিসপত্র রেখে আমরা বের হয়ে পড়লাম রোয়াংছড়ি উপজেলায়। রোয়াংছড়ি পেরিয়ে কচ্ছপতলি বাজারে পৌঁছালে বুঝলাম সত্যিকারের যাত্রা এখনই শুরু। স্থানীয় গাইড মংলা (সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর স্থানীয় স্টাফ) আমাদের নিয়ে ঢুকলেন শালবনের আঁকাবাঁকা পথে। কখনো শুকনো পাতা, কখনো ভেজা মাটি— হাঁটতে হাঁটতেই মাঝেমধ্যে ছোট ছোট ঝরনার ধারা কানে আসে। কয়েকবার ছোট নদী (তারাছা) পেরোতে হয়েছে, পাথর পিচ্ছিল হওয়ায় আনাবিয়াকে ধরে ধরে যেতে হয়েছে। পথজুড়ে মারমা পাড়া, শিশুদের কৌতূহলী চোখ, আর শান্ত বন— সব মিলিয়ে ট্র্যাকিংটা ছিল গল্পের মতো। প্রায় ৪০/৪৫ মিনিট  হাঁটার পর যখন দেবতাখুমের পাথুরে প্রবেশমুখ দেখা গেল, মনে হলো এক অনাবিষ্কৃত জগতে ঢুকছি। পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা পানির স্রোতের শব্দ, শরীরে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করছিলো যেনো।

blank

দেবতাখুমে পৌঁছে পিচ্ছিল পাথর বেয়ে নিচে নেমে নৌকায় উঠলাম কারণ বাঁশের ভেলায় আনাবিয়া উঠতে চাচ্ছিলো না, ভয় পাচ্ছিলো । যাহোক, দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে অন্ধকার-আলো মিশে থাকা সরু জলপথে এগোতে এগোতেই খেয়াল করলাম পানির গভীর সবুজ রং আর ঝুলে থাকা লতাগুল্মের সৌন্দর্য। জায়গাটা নীরব, ঠান্ডা আর ভৌতিক সুন্দর— যেন প্রকৃতির নিজস্ব ক্যাথেড্রাল। আনাবিয়া ভয়ে আঁকড়ে ধরলেও চারপাশের দৃশ্য আমাদের থমকে থাকতে বাধ্য করে। খুমের ভেতর সূর্যের আলো কম ঢোকে, তাই পানি কখনো নীল, কখনো পান্না সবুজ দেখায়। খুমে নৌকায় ঘুরাঘুরির সময় অনেক গল্প শোনা গেলো মংলার কাছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই দেবতাখুম নামকরণ। তার বক্তব্য অনুযায়ী মারমা ধর্মের এক দেবতা এই খুমের এক নির্দিষ্ট পাথরের উপর মাঝে মাঝে আসেন এবং তাদের সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। তাই উনাকে উদ্দেশ্যে করে পূজা দেয়া হয় এবং ঐ নির্দিষ্ট পাথরে কারো নামা নিষেধ। এর আগে নাকি এই নিষেধ অমান্য করে যারা নেমেছে, তাদের সবার ক্ষতি হয়েছে। আমরাও দেখলাম সেই নির্দিষ্ট পাথর আর সেখানে উৎসর্গকৃত কিছু খাবারসহ নানা আয়োজন। ফেরার পথে সময়ের সীমাবদ্ধতায় শীলবান্দা ঝরণায় যাওয়া হলো না, তবে দেবতাখুম একাই পুরো সফরের সেরা অংশ হয়ে রইল।

 

নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেবতাখুমে যাওয়ার কিছু  টিপস 

blank

দেবতাখুমে যেতে রওনা দেওয়ার আগে রোয়াংছড়ি থেকে স্থানীয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত গাইড নেওয়া অবশ্যই দরকার— মংলার মতো অভিজ্ঞ কেউ থাকলে পথ হারানোর ভয় থাকে না। কচ্ছপতলি বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া ভালো; সেখান থেকে ট্র্যাকিং শুরু হবে। এখানে আর্মিদের পাস নিতে গাইড হেল্প করবে আর হাটাহাটির জন্য এই বাজার থেকেই বার্মিজ জুতা নেয়া যায়। হালকা ব্যাগে পানি, স্যালাইন, স্ন্যাকস রাখা যায়, যদিও শীলবান্দা মারমা গ্রামের পরেই উপজেলা প্রশাসনের করা বিশ্রামাগারের পাশে এখন ২টা দোকান আছে। বর্ষার সময় গেলে পিচ্ছিলতা বেশি থাকে, তাই ভালো গ্রিপের জুতা ও অতিরিক্ত কাপড় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। দর্শনার্থীদের কাছে দেখলাম মোবাইল ও টাকা রাখার জন্য প্লাস্টিকের গলায় ঝোলানোর মতো একটা ছোট্ট ব্যাগ, পরে দেখলাম আসলেই খুব উপকারী। তাই মোবাইল ও টাকা পানিতে ভেজা থেকে রক্ষা পেতে কচ্ছপতলী বাজার থেকে এই ব্যাগ নেয়া যায় সাথে।

 

খুমে নামার পথে পাথর খুব পিচ্ছিল, তাই ধীরে নামা এবং হাত ফাঁকা রাখা জরুরি। ভেলায় উঠার সময় ব্যাগ যতটা সম্ভব শুকনো রাখা ভালো—মোবাইলের জন্য ওয়াটারপ্রুফ পাউচ ( যার কথা কিছুক্ষণ আগে বলেছি) থাকলে সুবিধা। সকালে গেলে ভিড় কম থাকে এবং খুমের ভেতরে আলোও সবচেয়ে সুন্দর হয়। শীলবান্দা ঝরনা যেতে চাইলে শারীরিক প্রস্তুতি ও সময় দুটোই আগে থেকে ধরে নিতে হবে। আর সবচেয়ে বড় টিপস—দেবতাখুমে প্রকৃতিকে সম্মান করুন; শব্দ কম করুন, কিছু ফেলবেন না, আর ফিরে আসুন ঠিক যেমনটা দেখেছিলেন—অক্ষত সৌন্দর্য রেখে।

 

তৃতীয় দিন: নীলগিরির মেঘ, চিম্বুকের শান্তি সাথে জলপ্রপাতের শব্দ

 

শেষ দিন সকালে আমরা গেলাম নীলগিরিতে। পথজুড়ে পাহাড়ি ফলের বাজার, মেঘ-রোদ-সবুজের খেলা, যেন লম্বা এক দৃশ্যশিল্প। নীলগিরি থেকে চিম্বুক পাহাড়ে দুপুরের লাঞ্চ, এরপর জলপ্রপাত আর শপিং সেরে সার্কিট হাউস থেকে কক্সবাজারে ফেরার পথে নেমে এল তিন দিনের গল্প।

blank

রাত ৮টায় বাসায় ফেরার পরও মন পড়ে ছিল সেই পাহাড়ি পথ, নদীর স্রোত আর মেঘের ভেলায়। বারবার যেতে চাই পাহাড়ে ঘেরা বান্দরবান।

লেখকঃ এলামনাই, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ 

              সাসেক্স ইউনিভার্সিটি, ইউকে

             ই-মেইলঃ merinabiam25@gmail.com

জনপ্রিয় খবর
blank

ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সূর্যোদয়: তৃণমূল থেকে তারকা তৈরির মহাপরিকল্পনা

ভ্রমণ

বান্দরবান: দেবতাখুমের রূপে তিন দিনের গল্প

প্রকাশের সময় : ০৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
blank

বিয়াম, কক্সবাজারের ৩৯তম বিভাগীয় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যাচের সাথে ১৩-১৬ নভেম্বর চার দিনের বান্দরবান সফরে বের হয়েছিলাম, যদিও আমরা তিনদিন পরেই চলে এসেছি অফিসিয়াল ব্যস্ততার কারণে। যাহোক, আমার মেয়ে আনাবিয়া, আফতাব, আমার বাবা ও আমাদের ঘরের সাহায্যকারী— সবাই মিলে ব্যাচের সঙ্গে চলমান এই যাত্রা হয়ে উঠেছিল পরিবারের জন্য এক টুকরো উৎসব।

 

প্রথম দিন: নীলাচল থেকে মেঘলার বিকেল

 

১৩ নভেম্বর সকালে কক্সবাজার থেকে রওনা দিয়ে দুপুরে নীলাচলের জেলা প্রশাসনের রেস্টহাউজে পৌঁছাই। পাহাড়ঘেরা শান্ত পরিবেশে একটু বিশ্রামের পর রওনা হই রূপালী ঝরনার দিকে। ছোট্ট সাইফুল— আমাদের গাইড, সময় আন্দাজে ভুল করলেও আন্তরিকতায় ছিল সত্যি অনন্য। আর কতদূর কত সময় লাগবে, তাকে জিজ্ঞেস করা মাত্র সে বলছে  আর মাত্র আধাঘন্টা পথ। প্রতি ১০ মিনিট পর পর তার একই উত্তর। যাহোক,  ঝরনার কাছে সামান্য পানি থাকলেও হাঁটা পথের গল্পই ছিল মূল আকর্ষণ।

 

বিকেলে মেঘলায় ঘোরাঘুরি ও রাতে দর্শনার্থী বিহীন ফাঁকা  নীলাচলের সৌন্দর্য ছিলো অপরিসীম। সন্ধ্যায় নীলাম্বরীতে ব্যাচের র‍্যাফেল ড্র ও ডিনার ছিলো। এরপর সবাই মিলে আড্ডা ও নীলাচল থেকে বান্দরবান শহরের আলোকিত রূপ দেখতে দেখতে প্রথম দিনের সমাপ্তি ছিল। এ এক হাসিখুশি পাহাড়ি সন্ধ্যা।

blank

নীলাচলের সৌন্দর্য ভোরে সূর্য উঠার আগে ও পরে ছিলো অনন্য। তাই পরদিন ভোরে উঠে গিয়েছি আমরা। সাদা মেঘের ভেলা, সূর্য উদয় ও হালকা শীতের ঠান্ডা উপভোগ, ব্যান্ডিং জেলা প্রশাসন এর শপ থেকে আখের শরবত পান ও হালকা হ্যান্ডিক্যাফট শপিং করা- সব মিলিয়ে অসাধারণ এক সকাল কাটলো নীলাচলে।

 

 বান্দরবান ট্যুরের সেরা আকর্ষণ দেবতাখুম দর্শন 

 

সার্কিট হাউসে জিনিসপত্র রেখে আমরা বের হয়ে পড়লাম রোয়াংছড়ি উপজেলায়। রোয়াংছড়ি পেরিয়ে কচ্ছপতলি বাজারে পৌঁছালে বুঝলাম সত্যিকারের যাত্রা এখনই শুরু। স্থানীয় গাইড মংলা (সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর স্থানীয় স্টাফ) আমাদের নিয়ে ঢুকলেন শালবনের আঁকাবাঁকা পথে। কখনো শুকনো পাতা, কখনো ভেজা মাটি— হাঁটতে হাঁটতেই মাঝেমধ্যে ছোট ছোট ঝরনার ধারা কানে আসে। কয়েকবার ছোট নদী (তারাছা) পেরোতে হয়েছে, পাথর পিচ্ছিল হওয়ায় আনাবিয়াকে ধরে ধরে যেতে হয়েছে। পথজুড়ে মারমা পাড়া, শিশুদের কৌতূহলী চোখ, আর শান্ত বন— সব মিলিয়ে ট্র্যাকিংটা ছিল গল্পের মতো। প্রায় ৪০/৪৫ মিনিট  হাঁটার পর যখন দেবতাখুমের পাথুরে প্রবেশমুখ দেখা গেল, মনে হলো এক অনাবিষ্কৃত জগতে ঢুকছি। পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা পানির স্রোতের শব্দ, শরীরে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করছিলো যেনো।

blank

দেবতাখুমে পৌঁছে পিচ্ছিল পাথর বেয়ে নিচে নেমে নৌকায় উঠলাম কারণ বাঁশের ভেলায় আনাবিয়া উঠতে চাচ্ছিলো না, ভয় পাচ্ছিলো । যাহোক, দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে অন্ধকার-আলো মিশে থাকা সরু জলপথে এগোতে এগোতেই খেয়াল করলাম পানির গভীর সবুজ রং আর ঝুলে থাকা লতাগুল্মের সৌন্দর্য। জায়গাটা নীরব, ঠান্ডা আর ভৌতিক সুন্দর— যেন প্রকৃতির নিজস্ব ক্যাথেড্রাল। আনাবিয়া ভয়ে আঁকড়ে ধরলেও চারপাশের দৃশ্য আমাদের থমকে থাকতে বাধ্য করে। খুমের ভেতর সূর্যের আলো কম ঢোকে, তাই পানি কখনো নীল, কখনো পান্না সবুজ দেখায়। খুমে নৌকায় ঘুরাঘুরির সময় অনেক গল্প শোনা গেলো মংলার কাছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই দেবতাখুম নামকরণ। তার বক্তব্য অনুযায়ী মারমা ধর্মের এক দেবতা এই খুমের এক নির্দিষ্ট পাথরের উপর মাঝে মাঝে আসেন এবং তাদের সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। তাই উনাকে উদ্দেশ্যে করে পূজা দেয়া হয় এবং ঐ নির্দিষ্ট পাথরে কারো নামা নিষেধ। এর আগে নাকি এই নিষেধ অমান্য করে যারা নেমেছে, তাদের সবার ক্ষতি হয়েছে। আমরাও দেখলাম সেই নির্দিষ্ট পাথর আর সেখানে উৎসর্গকৃত কিছু খাবারসহ নানা আয়োজন। ফেরার পথে সময়ের সীমাবদ্ধতায় শীলবান্দা ঝরণায় যাওয়া হলো না, তবে দেবতাখুম একাই পুরো সফরের সেরা অংশ হয়ে রইল।

 

নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেবতাখুমে যাওয়ার কিছু  টিপস 

blank

দেবতাখুমে যেতে রওনা দেওয়ার আগে রোয়াংছড়ি থেকে স্থানীয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত গাইড নেওয়া অবশ্যই দরকার— মংলার মতো অভিজ্ঞ কেউ থাকলে পথ হারানোর ভয় থাকে না। কচ্ছপতলি বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া ভালো; সেখান থেকে ট্র্যাকিং শুরু হবে। এখানে আর্মিদের পাস নিতে গাইড হেল্প করবে আর হাটাহাটির জন্য এই বাজার থেকেই বার্মিজ জুতা নেয়া যায়। হালকা ব্যাগে পানি, স্যালাইন, স্ন্যাকস রাখা যায়, যদিও শীলবান্দা মারমা গ্রামের পরেই উপজেলা প্রশাসনের করা বিশ্রামাগারের পাশে এখন ২টা দোকান আছে। বর্ষার সময় গেলে পিচ্ছিলতা বেশি থাকে, তাই ভালো গ্রিপের জুতা ও অতিরিক্ত কাপড় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। দর্শনার্থীদের কাছে দেখলাম মোবাইল ও টাকা রাখার জন্য প্লাস্টিকের গলায় ঝোলানোর মতো একটা ছোট্ট ব্যাগ, পরে দেখলাম আসলেই খুব উপকারী। তাই মোবাইল ও টাকা পানিতে ভেজা থেকে রক্ষা পেতে কচ্ছপতলী বাজার থেকে এই ব্যাগ নেয়া যায় সাথে।

 

খুমে নামার পথে পাথর খুব পিচ্ছিল, তাই ধীরে নামা এবং হাত ফাঁকা রাখা জরুরি। ভেলায় উঠার সময় ব্যাগ যতটা সম্ভব শুকনো রাখা ভালো—মোবাইলের জন্য ওয়াটারপ্রুফ পাউচ ( যার কথা কিছুক্ষণ আগে বলেছি) থাকলে সুবিধা। সকালে গেলে ভিড় কম থাকে এবং খুমের ভেতরে আলোও সবচেয়ে সুন্দর হয়। শীলবান্দা ঝরনা যেতে চাইলে শারীরিক প্রস্তুতি ও সময় দুটোই আগে থেকে ধরে নিতে হবে। আর সবচেয়ে বড় টিপস—দেবতাখুমে প্রকৃতিকে সম্মান করুন; শব্দ কম করুন, কিছু ফেলবেন না, আর ফিরে আসুন ঠিক যেমনটা দেখেছিলেন—অক্ষত সৌন্দর্য রেখে।

 

তৃতীয় দিন: নীলগিরির মেঘ, চিম্বুকের শান্তি সাথে জলপ্রপাতের শব্দ

 

শেষ দিন সকালে আমরা গেলাম নীলগিরিতে। পথজুড়ে পাহাড়ি ফলের বাজার, মেঘ-রোদ-সবুজের খেলা, যেন লম্বা এক দৃশ্যশিল্প। নীলগিরি থেকে চিম্বুক পাহাড়ে দুপুরের লাঞ্চ, এরপর জলপ্রপাত আর শপিং সেরে সার্কিট হাউস থেকে কক্সবাজারে ফেরার পথে নেমে এল তিন দিনের গল্প।

blank

রাত ৮টায় বাসায় ফেরার পরও মন পড়ে ছিল সেই পাহাড়ি পথ, নদীর স্রোত আর মেঘের ভেলায়। বারবার যেতে চাই পাহাড়ে ঘেরা বান্দরবান।

লেখকঃ এলামনাই, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ 

              সাসেক্স ইউনিভার্সিটি, ইউকে

             ই-মেইলঃ merinabiam25@gmail.com