ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে বাবার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

blank

বাবার স্মৃতিবিজড়িত যশোরের ঐতিহাসিক উলাসী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সার্বিক নিরাপত্তায় তৎপর ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। উদ্বোধন শেষে খালের পাড়েই স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় উলাসী খালে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিত। খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসবে বলে আশাবাদী তারা। প্রকল্পটি যেন শুধু উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তব সুফল বয়ে আনে, সেটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্মৃতিচারণ: উলাসী খালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক স্মৃতি। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগস্থলের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটির খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজে অংশ নেন। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে খনন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল খালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে উলাসী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল বারিক মণ্ডল বলেন, “রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেদিন হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে নেমেছিলেন। এরপর হেঁটে এসে নিজ হাতে মাটি কেটে তিনি আমার ভাই মেম্বার করিম বকস মণ্ডলের মাথার ঝুড়িতে তুলে দেন। এমনকি ভাইয়ের মাথার মাথালটিও (টোকা) রাষ্ট্রপতি নিজে পরে নিয়েছিলেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শুধু দুপুরে রুটি আর গুড় খেয়ে হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেদিন খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলেন।”

আবেগাপ্লুত হয়ে এই প্রবীণ আরও বলেন, “বাবার মতো ছেলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস। তখন তরুণ ছিলাম, জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলাম। এখন বয়সের ভারে নড়াচড়া করতে পারি না, আগের মতো গায়ে জোর থাকলে তারেক রহমানের সঙ্গেও মাটি কাটতাম।”

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি: এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়ে ১০টা ১৫ মিনিটে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে স্বাগত জানান যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শার্শার কর্মসূচি শেষে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতি নেবেন তিনি। এরপর বিকেলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। দিনের সব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতেই তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন।

blank

রূপপুরে আজ ইউরেনিয়াম লোডিং: পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পদার্পণ

যশোরে বাবার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ২১ ঘন্টা আগে
blank

বাবার স্মৃতিবিজড়িত যশোরের ঐতিহাসিক উলাসী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সার্বিক নিরাপত্তায় তৎপর ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। উদ্বোধন শেষে খালের পাড়েই স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় উলাসী খালে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিত। খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসবে বলে আশাবাদী তারা। প্রকল্পটি যেন শুধু উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তব সুফল বয়ে আনে, সেটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্মৃতিচারণ: উলাসী খালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক স্মৃতি। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগস্থলের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটির খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজে অংশ নেন। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে খনন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল খালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে উলাসী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল বারিক মণ্ডল বলেন, “রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেদিন হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে নেমেছিলেন। এরপর হেঁটে এসে নিজ হাতে মাটি কেটে তিনি আমার ভাই মেম্বার করিম বকস মণ্ডলের মাথার ঝুড়িতে তুলে দেন। এমনকি ভাইয়ের মাথার মাথালটিও (টোকা) রাষ্ট্রপতি নিজে পরে নিয়েছিলেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শুধু দুপুরে রুটি আর গুড় খেয়ে হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেদিন খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলেন।”

আবেগাপ্লুত হয়ে এই প্রবীণ আরও বলেন, “বাবার মতো ছেলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস। তখন তরুণ ছিলাম, জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলাম। এখন বয়সের ভারে নড়াচড়া করতে পারি না, আগের মতো গায়ে জোর থাকলে তারেক রহমানের সঙ্গেও মাটি কাটতাম।”

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি: এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়ে ১০টা ১৫ মিনিটে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে স্বাগত জানান যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শার্শার কর্মসূচি শেষে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতি নেবেন তিনি। এরপর বিকেলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। দিনের সব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতেই তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন।