ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শফিকুর রহমানকে দাফন

blank

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার ও নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ২টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান এবং থানা পুলিশের একটি দল এ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেয়।

গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে একই স্থানে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় চান্দ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ।

এর আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

সাংবাদিক শফিকুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মৌলভী আব্দুল হামিদ ও আয়েশা খাতুন দম্পতির ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বনানীতে নিজ বাসভবনে স্ট্রোক করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

রাজনৈতিক জীবনে মুহম্মদ শফিকুর রহমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও জাপানে সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। সাংবাদিকতা ও পেশাজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শফিকুর রহমানকে দাফন

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার ও নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ২টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান এবং থানা পুলিশের একটি দল এ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেয়।

গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে একই স্থানে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় চান্দ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ।

এর আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

সাংবাদিক শফিকুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মৌলভী আব্দুল হামিদ ও আয়েশা খাতুন দম্পতির ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বনানীতে নিজ বাসভবনে স্ট্রোক করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

রাজনৈতিক জীবনে মুহম্মদ শফিকুর রহমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও জাপানে সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। সাংবাদিকতা ও পেশাজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন।