বিশ্ব নিরাপদ সড়ক দিবসের সকালে মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেলফি পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী ও চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত যাত্রীর বাবা-মা। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বাসটি ভাঙচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের মো. শাহীনের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (২২) এবং একই গ্রামের মোজাহারের ছেলে অটোরিকশাচালক বাবলু মিয়া (২৮)। আহত ব্যক্তিরা হলেন ইয়াসিনের বাবা মো. শাহীন মিয়া ও মা রোজিনা আক্তার (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ঘিওরের মৌহালী গ্রাম থেকে পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বরংগাইল হাটের উদ্দেশে রওনা হন মো. শাহীন মিয়া। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে গন্তব্যে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে পাটুরিয়া থেকে ঢাকাগামী সেলফি পরিবহণের একটি বাস পেছন থেকে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই যাত্রী ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক বাবলু মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত শাহীন মিয়া ও রোজিনা আক্তারকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শাহীন মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সেলফি পরিবহণের বাসটি ভাঙচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। দীর্ঘ যানজটে শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সেলফি পরিবহণের একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পরিবহণটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন করেছেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তবে এসব উদ্যোগের পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, সেলফি পরিবহণের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্ঘটনায় হতাহতের অভিযোগ রয়েছে। অবরোধকারীদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। পরিবহণটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অনলাইন ডেস্ক 


















