ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি-তুরস্ক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 9
blank

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পরও ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই পাকিস্তানের। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে বর্তমানে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।

সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হুথিদের হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয় এখন আলোচনায় নেই।’ তবে পরিস্থিতি দাবি করলে এবং সময় এলে চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে পাকিস্তান হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ইয়েমেনি গোষ্ঠীটির ওপর প্রভাব খাটাতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও ভূমিকা পালন করছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলেও তথাকথিত ‘মক্কা জোট’ সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এদিকে ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্থবির সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মকাল থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরুর পর লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে হুথি যোদ্ধারা। তারা একের পর এক কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের এই অগ্রগতি তাদের বাব আল-মান্দেব প্রণালির নৌপথ নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের কৌশলগত প্রভাবও বাড়তে পারে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র্যান্সলেম বলেন, হুথিরা এমন সামরিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা তাদের বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে। তার মতে, ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যমান সামরিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় হুথিদের প্রভাব বিস্তার ইরানের হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের চেয়েও সহজ হতে পারে।

কয়েক দিনের তীব্র লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার হুথিরা সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে পিছু হটিয়ে লোহিত সাগর উপকূলের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। আরব গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দিনভর সংঘর্ষে হুথিরা আরও কয়েকটি এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে।

blank

কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি-তুরস্ক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান

প্রকাশের সময় : ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
blank

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পরও ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই পাকিস্তানের। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে বর্তমানে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।

সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হুথিদের হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয় এখন আলোচনায় নেই।’ তবে পরিস্থিতি দাবি করলে এবং সময় এলে চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে পাকিস্তান হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ইয়েমেনি গোষ্ঠীটির ওপর প্রভাব খাটাতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও ভূমিকা পালন করছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলেও তথাকথিত ‘মক্কা জোট’ সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এদিকে ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্থবির সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মকাল থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরুর পর লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে হুথি যোদ্ধারা। তারা একের পর এক কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের এই অগ্রগতি তাদের বাব আল-মান্দেব প্রণালির নৌপথ নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের কৌশলগত প্রভাবও বাড়তে পারে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র্যান্সলেম বলেন, হুথিরা এমন সামরিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা তাদের বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে। তার মতে, ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যমান সামরিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় হুথিদের প্রভাব বিস্তার ইরানের হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের চেয়েও সহজ হতে পারে।

কয়েক দিনের তীব্র লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার হুথিরা সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে পিছু হটিয়ে লোহিত সাগর উপকূলের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। আরব গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দিনভর সংঘর্ষে হুথিরা আরও কয়েকটি এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে।