ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ সার ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ আবেদন

blank

চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ সার ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ আবেদন /যোগ্য ও সৎ ব্যবসায়ী বাছাইয়ে নীতিমালার কড়া প্রয়োগ চায় কৃষকমহল

চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগে চার উপজেলায় মোট ৪৫ টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ টি আবেদন জমা পড়েছে। ফলে প্রতি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১৪ জন আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কৃষকের কাছে সময়মতো ও নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে সক্ষম যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিরাই যেন ডিলারশিপ পান-এমন প্রত্যাশা কৃষক মহলের। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১ টি ডিলারশিপের বিপরীতে ১৭৪ টি আবেদন জমা পড়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬ টি ডিলারশিপের জন্য আবেদন পড়েছে ১৯৮ টি।

দামুড়হুদা উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯ টি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১৬০ টি।

আর জীবননগর উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯ টি ডিলারশিপের জন্য ১১১ টি আবেদন জমা পড়েছে।

সার ডিলারশিপ শুধু ব্যবসায়িক অনুমোদন নয়; এটি কৃষকের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি দায়িত্ব। মরসুমে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি ও অন্যান্য সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হলে কৃষক সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারেন। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে, অতিরিক্ত দামে সার কেনার সুযোগও হ্রাস পায়। ফলে কৃষকের খরচ ও ভোগান্তি দুটিই কমে।

২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালার আলোকে প্রথমে আবেদনপত্রগুলো জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই শেষে দুই কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনপত্র উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হবে। উপজেলা কমিটি তথ্য যাচাই করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে।

এরপর উপজেলা কমিটির প্রস্তাবিত প্রত্যেক প্রার্থীর তথ্য জেলা কমিটি পুনরায় যাচাই করবে। যাচাই শেষে প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন প্রার্থীর প্রস্তাব সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হবে।

কেন্দ্রীয় কমিটি প্রস্তাবিত প্রার্থীদের আবেদনপত্র ও তথ্য পরীক্ষা করে ইউনিয়নপ্রতি একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত ডিলার নিয়োগ অনুমোদন করা হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম কিংবা শুধু কাগুজে যোগ্যতার পরিবর্তে পর্যাপ্ত গুদাম, আর্থিক সক্ষমতা, সারের বাজারজাতকরণে অভিজ্ঞতা, সততা ও কৃষকবান্ধব মনোভাবকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ হলে চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা সঠিক সময়ে নির্ধারিত দামে সার পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা সহজ হবে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরল ইসলাম বলেন, ‘৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ টি আবেদন জমা পড়েছে। কোনো বিবেচনায় নয়, ২০২৬ সালের নীতিমালার আলোকে যোগ্য প্রার্থীরাই ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাবেন।’ উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিলো আবেদনের শেষ দিন।

blank

চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ সার ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ আবেদন

চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ সার ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ আবেদন

প্রকাশের সময় : ২৫ মিনিট আগে
blank

চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ সার ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ আবেদন /যোগ্য ও সৎ ব্যবসায়ী বাছাইয়ে নীতিমালার কড়া প্রয়োগ চায় কৃষকমহল

চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগে চার উপজেলায় মোট ৪৫ টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ টি আবেদন জমা পড়েছে। ফলে প্রতি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১৪ জন আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কৃষকের কাছে সময়মতো ও নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে সক্ষম যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিরাই যেন ডিলারশিপ পান-এমন প্রত্যাশা কৃষক মহলের। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১ টি ডিলারশিপের বিপরীতে ১৭৪ টি আবেদন জমা পড়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬ টি ডিলারশিপের জন্য আবেদন পড়েছে ১৯৮ টি।

দামুড়হুদা উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯ টি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১৬০ টি।

আর জীবননগর উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯ টি ডিলারশিপের জন্য ১১১ টি আবেদন জমা পড়েছে।

সার ডিলারশিপ শুধু ব্যবসায়িক অনুমোদন নয়; এটি কৃষকের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি দায়িত্ব। মরসুমে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি ও অন্যান্য সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হলে কৃষক সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারেন। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে, অতিরিক্ত দামে সার কেনার সুযোগও হ্রাস পায়। ফলে কৃষকের খরচ ও ভোগান্তি দুটিই কমে।

২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালার আলোকে প্রথমে আবেদনপত্রগুলো জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই শেষে দুই কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনপত্র উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হবে। উপজেলা কমিটি তথ্য যাচাই করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে।

এরপর উপজেলা কমিটির প্রস্তাবিত প্রত্যেক প্রার্থীর তথ্য জেলা কমিটি পুনরায় যাচাই করবে। যাচাই শেষে প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন প্রার্থীর প্রস্তাব সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হবে।

কেন্দ্রীয় কমিটি প্রস্তাবিত প্রার্থীদের আবেদনপত্র ও তথ্য পরীক্ষা করে ইউনিয়নপ্রতি একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত ডিলার নিয়োগ অনুমোদন করা হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম কিংবা শুধু কাগুজে যোগ্যতার পরিবর্তে পর্যাপ্ত গুদাম, আর্থিক সক্ষমতা, সারের বাজারজাতকরণে অভিজ্ঞতা, সততা ও কৃষকবান্ধব মনোভাবকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ হলে চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা সঠিক সময়ে নির্ধারিত দামে সার পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা সহজ হবে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরল ইসলাম বলেন, ‘৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ টি আবেদন জমা পড়েছে। কোনো বিবেচনায় নয়, ২০২৬ সালের নীতিমালার আলোকে যোগ্য প্রার্থীরাই ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাবেন।’ উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিলো আবেদনের শেষ দিন।