ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাটি সরে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে শতবর্ষী স্কুল ভবন

blank

পাশের পুকুরের দিকে নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ১১১ বছরের পুরোনো বৃলাহিড়ীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন। প্রায় চার বছর ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংস্কার, অপসারণ কিংবা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে আতঙ্ক নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে বিদ্যালয়ের ২৬৫ শিক্ষার্থী।

১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি উপজেলার বি.এল.বাড়ী গ্রামে অবস্থিত। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। দুটি একতলা ভবনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ১৯৯৫ সালে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। দক্ষিণ পাশে পুকুরের পাড় ঘেঁষে নির্মিত ভবনটির নিচের মাটি কয়েক বছর ধরে সরে যাচ্ছে। এতে ভবনটির একটি অংশ যেকোনো সময় পুকুরে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতী খাতুন বলে, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই আমাদের ক্লাস করতে হয়। সব সময় ভয় হয়, কখন ভবনটি ভেঙে পড়ে।’

সহকারী শিক্ষিকা রেশমা বলেন, ‘শিশু শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থেকে দূরে বসাই। হঠাৎ ভবনটি ভেঙে পড়লে কী হবে—সব সময় সেই ভয় থাকে।’

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে গত চার বছরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক মোছা. নাসিমা নাসরিন। তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।’

ফরিদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খ. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আবেদনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছে অগ্রায়ন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে বিদ্যালয়টিতে নেই সীমানাপ্রাচীর ও ভালো খেলার মাঠ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সামনের মাঠে পানি জমে যায়। সেই পানি মাড়িয়েই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়। সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুন বলেন, ‘ভবনের ঝুঁকির পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর ও মাঠের সমস্যাও রয়েছে। এসব সমস্যা নিয়েই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

বর্তমানে শিশু, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে। বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে ভবনটি নির্মাণের পর বিদ্যালয়ে আর কোনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা অপসারণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য বিবেচনায় নতুন ভবন, সীমানাপ্রাচীর ও খেলার মাঠ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

blank

‘এসো গাইডিং করি, বাল্যবিবাহ বন্ধ করি’—সাঁথিয়ায় গার্ল গাইডসের দীক্ষা দান

মাটি সরে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে শতবর্ষী স্কুল ভবন

প্রকাশের সময় : ৫ ঘন্টা আগে
blank

পাশের পুকুরের দিকে নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ১১১ বছরের পুরোনো বৃলাহিড়ীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন। প্রায় চার বছর ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংস্কার, অপসারণ কিংবা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে আতঙ্ক নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে বিদ্যালয়ের ২৬৫ শিক্ষার্থী।

১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি উপজেলার বি.এল.বাড়ী গ্রামে অবস্থিত। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। দুটি একতলা ভবনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ১৯৯৫ সালে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। দক্ষিণ পাশে পুকুরের পাড় ঘেঁষে নির্মিত ভবনটির নিচের মাটি কয়েক বছর ধরে সরে যাচ্ছে। এতে ভবনটির একটি অংশ যেকোনো সময় পুকুরে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতী খাতুন বলে, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই আমাদের ক্লাস করতে হয়। সব সময় ভয় হয়, কখন ভবনটি ভেঙে পড়ে।’

সহকারী শিক্ষিকা রেশমা বলেন, ‘শিশু শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থেকে দূরে বসাই। হঠাৎ ভবনটি ভেঙে পড়লে কী হবে—সব সময় সেই ভয় থাকে।’

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে গত চার বছরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক মোছা. নাসিমা নাসরিন। তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।’

ফরিদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খ. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আবেদনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছে অগ্রায়ন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে বিদ্যালয়টিতে নেই সীমানাপ্রাচীর ও ভালো খেলার মাঠ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সামনের মাঠে পানি জমে যায়। সেই পানি মাড়িয়েই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়। সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুন বলেন, ‘ভবনের ঝুঁকির পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর ও মাঠের সমস্যাও রয়েছে। এসব সমস্যা নিয়েই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

বর্তমানে শিশু, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে। বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে ভবনটি নির্মাণের পর বিদ্যালয়ে আর কোনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা অপসারণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য বিবেচনায় নতুন ভবন, সীমানাপ্রাচীর ও খেলার মাঠ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।