ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের কাছে ঢাকার চিঠি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 17
blank

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারত সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও রায় ঘোষণার পর ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

তবে ভারতের জনপ্রিয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দুর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চুক্তি থাকলেও ভারতকে এখনই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা যাবে না।

এর পেছনে রয়েছে চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধারা। ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে বা অভিযোগের ধরনকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হলে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ বিচারের নিশ্চয়তা পাবেন না—এমন আশঙ্কা থাকলে প্রত্যর্পণের আবেদন নাকচ করা যেতে পারে।

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণ আটকে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে আইনি বিষয়গুলোর পাশাপাশি ভারতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক সংকটের সময় তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার পর এখন বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হলে তা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পরও ভারত বিষয়টি দীর্ঘায়িত করতে পারে কিংবা চুক্তির বিভিন্ন আইনি ধারা দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের কাছে ঢাকার চিঠি

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
blank

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারত সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও রায় ঘোষণার পর ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

তবে ভারতের জনপ্রিয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দুর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চুক্তি থাকলেও ভারতকে এখনই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা যাবে না।

এর পেছনে রয়েছে চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধারা। ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে বা অভিযোগের ধরনকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হলে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ বিচারের নিশ্চয়তা পাবেন না—এমন আশঙ্কা থাকলে প্রত্যর্পণের আবেদন নাকচ করা যেতে পারে।

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণ আটকে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে আইনি বিষয়গুলোর পাশাপাশি ভারতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক সংকটের সময় তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার পর এখন বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হলে তা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পরও ভারত বিষয়টি দীর্ঘায়িত করতে পারে কিংবা চুক্তির বিভিন্ন আইনি ধারা দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।