শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। তিনি বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি যেই হোন না কেন, শিক্ষকদের অবহেলা করা যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের চাপমুক্ত রেখে কাজের সুযোগ দিতে হবে।
শনিবার নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক দিনব্যাপী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল আজিজ এমপি বলেন, “আগামী জানুয়ারি থেকে কোনো শ্রেণিতে ৫৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।”
নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও ফলাফল ভালো করতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদক, বাল্যবিয়ে ও স্মার্টফোনের অপব্যবহার থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একটি সুন্দর ও আদর্শ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে আব্দুল আজিজ বলেন, “দেশকে ধ্বংস করতে যা যা করা দরকার, বিগত সরকার তাই করেছে। শিক্ষাঙ্গনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে এনে মেধাবী ও যোগ্য প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুস্তম আলী হেলালী। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার।
এ সময় গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান, প্রতিষ্ঠানপ্রধান অধ্যক্ষ লিপি রাণী সরকার, অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান, মাসুদুল হক আলেক, আব্দুল মজিদ, অধ্যক্ষ হারুনুর রশীদ, আনিসুর রহমান, ওসমান গণী, শিক্ষক জহুরুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান রান্টু, সাংবাদিক আলী আক্কাছ, আয়নাল হকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধান শিক্ষক নিগার সুলতানা ও শিক্ষক মিজানুর রহমান। এতে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাত শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নেন।
দিনব্যাপী মতবিনিময় সভার দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সংগীত পরিবেশন করেন।

আয়নাল হক,গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 























