লন্ডনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকের নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণার মানোন্নয়ন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ট্রাস্ট ফান্ড গঠন এবং প্রবাসী অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত অনাড়ম্বর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এ বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বিশ্বজুড়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সভাপতি অধীর রঞ্জন দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খালেদ মিল্লাতের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুলবুল হাসান, সহ-সভাপতি আশরাফ জামান ও মিনারা সুলতানা, কোষাধ্যক্ষ আসাবুল হোসেন, আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার ইশরাত জাহান পল্লবী, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রাশিদ আহমেদ তারেকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
বৈঠকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিদেশে ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত। সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং সামগ্রিক উন্নয়নে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাগত নেটওয়ার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অ্যালামনাইদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।
উপাচার্য আরও বলেন, প্রবাসী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর ও টেকসই সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সভাপতি অধীর রঞ্জন দাস বলেন, বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সংগঠনের অন্যতম অঙ্গীকার। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যেই সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খালেদ মিল্লাত বলেন, প্রবাসী অ্যালামনাইদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক সংযোগকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
আলোচনা শেষে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকের পক্ষ থেকে সভাপতি অধীর রঞ্জন দাস ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খালেদ মিল্লাত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। এ সময় উভয় পক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী অ্যালামনাইদের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, কমনওয়েলথভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ)-এর কাউন্সিল সভায় অংশ নিতে লন্ডনে এসেছেন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।

অনলাইন ডেস্ক 



















