ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ

blank

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রাজশাহীর অভ্যন্তরীণ (লোকাল) রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের একাংশের ডাকা কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠন ও আর্থিক হিসাব নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং সদস্য হিসেবে শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ, শ্রমিক ফেডারেশন ও বাস মালিক সমিতির একজন করে প্রতিনিধি রাখার কথা ছিল।

তবে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ আলী পল্টু। এ সময় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ করা হয়।

বৈঠক শেষে শ্রমিকদের একটি অংশ রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় নজরুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন স্বরণী স্পেশাল (নিউ হিমাচল) পরিবহনের কাউন্টারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে তার একটি বাসেও ভাঙচুরের চেষ্টা করা হলে অন্য শ্রমিকরা তা প্রতিহত করেন।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সোমবার রাত ৮টার দিকে দূরপাল্লার বাস চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকদের একাংশ কর্মবিরতি শুরু করলে জেলার লোকাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা হারুন জানান, প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক হলেও কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে অন্যান্য জেলার সঙ্গে বাস যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজশাহী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন-সমর্থিত বর্তমান কমিটির নেতারা নির্বাচন ছাড়াই বিদ্যমান কমিটি বহাল রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকদের একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করে। পরে তারা কাউন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তার দাবি, সেখানে অধিকাংশই বহিরাগত এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থক ছিলেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চান তারা এবং শ্রমিকদের চাওয়া অনুযায়ী আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতেও প্রস্তুত ছিলেন।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তারি বেগম জানান, সোমবারের ঘটনাটি মীমাংসা হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জনপ্রিয় খবর
blank

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি নৌ শাখা পরিদর্শনে ৫৩ বিএনসিসি খুলনা ফ্লোটিলার অধিনায়ক

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ

প্রকাশের সময় : ১৭ ঘন্টা আগে
blank

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রাজশাহীর অভ্যন্তরীণ (লোকাল) রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের একাংশের ডাকা কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠন ও আর্থিক হিসাব নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং সদস্য হিসেবে শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ, শ্রমিক ফেডারেশন ও বাস মালিক সমিতির একজন করে প্রতিনিধি রাখার কথা ছিল।

তবে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ আলী পল্টু। এ সময় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ করা হয়।

বৈঠক শেষে শ্রমিকদের একটি অংশ রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় নজরুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন স্বরণী স্পেশাল (নিউ হিমাচল) পরিবহনের কাউন্টারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে তার একটি বাসেও ভাঙচুরের চেষ্টা করা হলে অন্য শ্রমিকরা তা প্রতিহত করেন।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সোমবার রাত ৮টার দিকে দূরপাল্লার বাস চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকদের একাংশ কর্মবিরতি শুরু করলে জেলার লোকাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা হারুন জানান, প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক হলেও কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে অন্যান্য জেলার সঙ্গে বাস যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজশাহী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন-সমর্থিত বর্তমান কমিটির নেতারা নির্বাচন ছাড়াই বিদ্যমান কমিটি বহাল রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকদের একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করে। পরে তারা কাউন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তার দাবি, সেখানে অধিকাংশই বহিরাগত এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থক ছিলেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চান তারা এবং শ্রমিকদের চাওয়া অনুযায়ী আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতেও প্রস্তুত ছিলেন।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তারি বেগম জানান, সোমবারের ঘটনাটি মীমাংসা হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।