ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব

blank

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে দেশে তার নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সম্পদ কীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে শহীদ পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাধারণ আইনের আওতায় সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে এর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ থাকবে। অর্থাৎ আগে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে এবং এতে আইনগত জটিলতা তৈরি হবে না।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নামে মোট প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার কাছে নগদ অর্থ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল।

শেখ হাসিনার নামে উপহার হিসেবে পাওয়া তিনটি মোটরগাড়ির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব গাড়ির মূল্য সেখানে দেখানো হয়নি। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া শেখ হাসিনার নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির তথ্য রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে থাকা এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

ঢাকার পূর্বাচলে তার নামে একটি প্লট রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক আংশিক জমির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জমির অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনার নিজের নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।

শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব

প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
blank

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে দেশে তার নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সম্পদ কীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে শহীদ পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাধারণ আইনের আওতায় সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে এর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ থাকবে। অর্থাৎ আগে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে এবং এতে আইনগত জটিলতা তৈরি হবে না।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নামে মোট প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার কাছে নগদ অর্থ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল।

শেখ হাসিনার নামে উপহার হিসেবে পাওয়া তিনটি মোটরগাড়ির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব গাড়ির মূল্য সেখানে দেখানো হয়নি। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া শেখ হাসিনার নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির তথ্য রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে থাকা এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

ঢাকার পূর্বাচলে তার নামে একটি প্লট রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক আংশিক জমির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জমির অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনার নিজের নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।