ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে জমি বিরোধে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি মামলা

blank

শিরোনাম: নারায়ণগঞ্জে জমি বিরোধে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি মামলা

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা, তার দুই ভাইসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিএনপি সমর্থক শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদ নেতার ব্যবসায়িক অংশীদার ও এক সমর্থক বিএনপি নেতা-কর্মীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বিএনপি সমর্থক শফিকুল ইসলাম মামলাটি করেন। এতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম ভূইয়া, তার দুই ভাই মো. আল-আমিন ভূইয়া ও মো. সজীব ভূইয়া, মো. সেন্টু ভূইয়া এবং আমজাদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

অপরদিকে ১২ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মো. শহিদুল্লাহ, মো. নবীর হোসেন, আয়াত উল্লাহ, সুবেদ আলী, রাজা মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মোস্তফা কামালের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে মোস্তফা কামাল ও মোহাম্মদ আলী নাসিকের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। অন্যরা বিএনপির কর্মী ও সমর্থক বলে জানা গেছে।

বিএনপি সমর্থক শফিকুল ইসলামের মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার সফিউদ্দিন মিয়া ও সুমন আহম্মেদের ৬০ শতাংশ জমি শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন রেজিস্ট্রি বায়নামূলে ক্রয় করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় আসামিরা হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহতদের নারায়ণগঞ্জ খানপুরের তিনশ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মামলার বাদী পক্ষের মোহাম্মদ আলী বলেন, তারা কয়েকজন মিলে এক কোটি ৩০ লাখ টাকায় জমিটি বায়না রেজিস্ট্রি করে ভোগদখলে আছেন। হঠাৎ আরিফুল ইসলাম, তার দুই ভাইসহ আরও কয়েকজন জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় শফিকুল ইসলাম, নবীর হোসেন ও রাজা মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা মো. আরিফুল ইসলাম ভূইয়া অভিযোগ করেন, তারা জমির মূল ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৪৫ শতাংশ জমি বায়না করেছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের প্রভাব খাটিয়ে তাদের বায়না করা জমিসহ ৬০ শতাংশ জমি অবৈধভাবে বায়না করে এবং ভূমি অফিসে অর্থের বিনিময়ে তাদের নামজারি বাতিল করিয়েছে।

আরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তারা মিসকেস করলে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি অফিসের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে সাক্ষ্য দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ অভিযোগ দেয়। পুলিশ ১১ সেপ্টেম্বর বিএনপি সমর্থকদের মামলা এবং ১২ সেপ্টেম্বর তাদের মামলা রেকর্ড করে। তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। থানার ওসি তদন্ত মজিবুর রহমান জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন, তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাসুম বিল্লাহ বলেন, মারামারির অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ নেতা, তার ভাই ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

blank

নারায়ণগঞ্জে জমি বিরোধে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি মামলা

নারায়ণগঞ্জে জমি বিরোধে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি মামলা

প্রকাশের সময় : ১৯ মিনিট আগে
blank

শিরোনাম: নারায়ণগঞ্জে জমি বিরোধে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি মামলা

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা, তার দুই ভাইসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিএনপি সমর্থক শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদ নেতার ব্যবসায়িক অংশীদার ও এক সমর্থক বিএনপি নেতা-কর্মীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বিএনপি সমর্থক শফিকুল ইসলাম মামলাটি করেন। এতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম ভূইয়া, তার দুই ভাই মো. আল-আমিন ভূইয়া ও মো. সজীব ভূইয়া, মো. সেন্টু ভূইয়া এবং আমজাদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

অপরদিকে ১২ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মো. শহিদুল্লাহ, মো. নবীর হোসেন, আয়াত উল্লাহ, সুবেদ আলী, রাজা মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মোস্তফা কামালের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে মোস্তফা কামাল ও মোহাম্মদ আলী নাসিকের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। অন্যরা বিএনপির কর্মী ও সমর্থক বলে জানা গেছে।

বিএনপি সমর্থক শফিকুল ইসলামের মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার সফিউদ্দিন মিয়া ও সুমন আহম্মেদের ৬০ শতাংশ জমি শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন রেজিস্ট্রি বায়নামূলে ক্রয় করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় আসামিরা হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহতদের নারায়ণগঞ্জ খানপুরের তিনশ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মামলার বাদী পক্ষের মোহাম্মদ আলী বলেন, তারা কয়েকজন মিলে এক কোটি ৩০ লাখ টাকায় জমিটি বায়না রেজিস্ট্রি করে ভোগদখলে আছেন। হঠাৎ আরিফুল ইসলাম, তার দুই ভাইসহ আরও কয়েকজন জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় শফিকুল ইসলাম, নবীর হোসেন ও রাজা মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা মো. আরিফুল ইসলাম ভূইয়া অভিযোগ করেন, তারা জমির মূল ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৪৫ শতাংশ জমি বায়না করেছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের প্রভাব খাটিয়ে তাদের বায়না করা জমিসহ ৬০ শতাংশ জমি অবৈধভাবে বায়না করে এবং ভূমি অফিসে অর্থের বিনিময়ে তাদের নামজারি বাতিল করিয়েছে।

আরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তারা মিসকেস করলে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি অফিসের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে সাক্ষ্য দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ অভিযোগ দেয়। পুলিশ ১১ সেপ্টেম্বর বিএনপি সমর্থকদের মামলা এবং ১২ সেপ্টেম্বর তাদের মামলা রেকর্ড করে। তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। থানার ওসি তদন্ত মজিবুর রহমান জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন, তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাসুম বিল্লাহ বলেন, মারামারির অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ নেতা, তার ভাই ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।