ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

blank

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক, বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে আমদানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা প্রয়োজন।

হাইকমিশনার জানান, আগামী অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও একই ধরনের মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান তিনি।

ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে ইমরান হায়দার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান হাইকমিশনার। জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান, বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও ওষুধসহ মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তার দেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তান কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

blank

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশের সময় : এক মিনিট আগে
blank

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক, বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে আমদানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা প্রয়োজন।

হাইকমিশনার জানান, আগামী অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও একই ধরনের মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান তিনি।

ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে ইমরান হায়দার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান হাইকমিশনার। জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান, বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও ওষুধসহ মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তার দেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তান কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।