ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরওয়ের ধর্মীয় চিত্রে বড় পরিবর্তন, দ্রুত বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা

blank

ইউরোপের দেশ নরওয়েতে ঐতিহ্যবাহী চার্চ অব নরওয়ে-এর সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। একই সঙ্গে দেশটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নরওয়ের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিক্স নরওয়ে (এসএসবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এসএসবির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে নরওয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশ চার্চ অব নরওয়ের সদস্য ছিলেন। তবে ২০২৪ সালে সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ শতাংশে। শুধু ২০২৪ সালেই প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চার্চের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন।

অন্যদিকে, চার্চের বাইরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত এক বছরে এসব সংগঠনে নতুন করে প্রায় ১৮ হাজার সদস্য যুক্ত হয়েছেন। ফলে চার্চের বাইরের ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক সংগঠনগুলোর মোট সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে নরওয়ের প্রায় ৪২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধর্মীয় বা জীবনদর্শনভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে নিবন্ধিত, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ। তবে পরিবর্তনের এই ধারার মধ্যেও নরওয়েতে এখনো খ্রিস্টধর্মই সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম। চার্চ অব নরওয়েসহ বিভিন্ন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৮ লাখেরও বেশি।

সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়। গত এক বছরে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলোতে নতুন করে প্রায় ৭ হাজার সদস্য যুক্ত হয়েছেন। ২০০৬ সালে নরওয়েতে নিবন্ধিত মুসলিমের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭২ হাজার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার অতিক্রম করবে।

স্ট্যাটিস্টিক্স নরওয়ের উপদেষ্টা আন্দ্রেয়া ইহলার ইভেনসেন বলেন, নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা থেকে মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া গেলেও এটি সব সময় ব্যক্তির প্রকৃত বিশ্বাসকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। অনেকেই কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সদস্য না হয়েও নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাসী থাকতে পারেন। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে ধর্মচর্চা না করলেও পারিবারিক ঐতিহ্য বা সাংস্কৃতিক কারণে কোনো ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত থাকেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান নরওয়ের সমাজে ধর্মীয় বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটি ধীরে ধীরে একটি বহুত্ববাদী সমাজে পরিণত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও জীবনদর্শনের মানুষ পারস্পরিক সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করছেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা এনসিপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত

নরওয়ের ধর্মীয় চিত্রে বড় পরিবর্তন, দ্রুত বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

ইউরোপের দেশ নরওয়েতে ঐতিহ্যবাহী চার্চ অব নরওয়ে-এর সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। একই সঙ্গে দেশটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নরওয়ের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিক্স নরওয়ে (এসএসবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এসএসবির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে নরওয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশ চার্চ অব নরওয়ের সদস্য ছিলেন। তবে ২০২৪ সালে সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ শতাংশে। শুধু ২০২৪ সালেই প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চার্চের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন।

অন্যদিকে, চার্চের বাইরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত এক বছরে এসব সংগঠনে নতুন করে প্রায় ১৮ হাজার সদস্য যুক্ত হয়েছেন। ফলে চার্চের বাইরের ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক সংগঠনগুলোর মোট সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে নরওয়ের প্রায় ৪২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধর্মীয় বা জীবনদর্শনভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে নিবন্ধিত, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ। তবে পরিবর্তনের এই ধারার মধ্যেও নরওয়েতে এখনো খ্রিস্টধর্মই সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম। চার্চ অব নরওয়েসহ বিভিন্ন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৮ লাখেরও বেশি।

সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়। গত এক বছরে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলোতে নতুন করে প্রায় ৭ হাজার সদস্য যুক্ত হয়েছেন। ২০০৬ সালে নরওয়েতে নিবন্ধিত মুসলিমের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭২ হাজার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার অতিক্রম করবে।

স্ট্যাটিস্টিক্স নরওয়ের উপদেষ্টা আন্দ্রেয়া ইহলার ইভেনসেন বলেন, নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা থেকে মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া গেলেও এটি সব সময় ব্যক্তির প্রকৃত বিশ্বাসকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। অনেকেই কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সদস্য না হয়েও নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাসী থাকতে পারেন। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে ধর্মচর্চা না করলেও পারিবারিক ঐতিহ্য বা সাংস্কৃতিক কারণে কোনো ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত থাকেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান নরওয়ের সমাজে ধর্মীয় বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটি ধীরে ধীরে একটি বহুত্ববাদী সমাজে পরিণত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও জীবনদর্শনের মানুষ পারস্পরিক সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করছেন।