সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই প্রকৌশলীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে কাটাগাড়ি পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালের শেষের দিকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। কাজের এই ধীরগতি ও নানা অনিয়মের কারণে গত এক বছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯টি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি একটিরও জবাব দেয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক অভিযোগ করেন, নিম্নমানের ইটের খোয়া ও মাটি মিশ্রিত বালু দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করায় তাকে এবং সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহাব মনিরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে একই কারণে সহকারী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলামকে হুমকি দিয়ে বদলি হতে বাধ্য করা হয়েছিল। মূলত অনিয়ম নিয়ে কথা বললেই ঠিকাদারের লোকজন অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম জানান, সড়কের কাজে শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো প্রকৌশলীরা অনিয়ম ধরলে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের ডিএমডি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, কাজটি তাদের নামে থাকলেও বাস্তবায়ন করছে সিরাজগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠান।
সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন। সড়কে মাটির পর্যাপ্ত ঘাটতি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্টাফ রিপোর্টার 




















