লালমনিরহাট থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন তরুণ ট্রেন পরিচালক (গার্ড) ফিরোজ হোসেন সবুজ। নিয়ম অনুযায়ী লালমনিরহাট বা বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে তার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না; নিজ গ্রামে ফিরলেন অ্যাম্বুলেন্সে, নিথর দেহে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনা করে ঢাকায় পৌঁছান ফিরোজ। রাতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের গার্ড রানিং রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। সেখানে অবস্থানকালেই হঠাৎ তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরোজকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ফিরোজের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে রেলওয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার বাড়ি নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার দাউদপুর গ্রামে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে গার্ড গ্রেড-২ পদে যোগ দেওয়া ফিরোজ ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও অমায়িক একজন মানুষ।
ফিরোজের সহকর্মী লোকোমাস্টার (চালক) সবুজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “ফিরোজ ট্রেন নিয়ে আমাদের সঙ্গেই ঢাকায় গিয়েছিল। রাতে রানিং রুমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। তার এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”
ফিরোজ হোসেনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁয় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার এই মৃত্যুতে লালমনিরহাট ডিভিশনের রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

নওগাঁ প্রতিনিধি 




















