নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ২ নম্বর বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের বাগডোব গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. শাকিল আহম্মেদের (১৮) উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন একটি ইলেকট্রিক্যাল হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভর করছে। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, আর্থিক অসচ্ছলতা ও চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, শাকিলের বাবা খাবির হোসেন একজন দিনমজুর। দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে শাকিল জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুটি পা অবশ ও বাঁকা হওয়ায় তিনি দাঁড়াতে কিংবা হাঁটতে পারেন না। তবে দুটি হাত স্বাভাবিক থাকায় হাতের ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করেন।
প্রতিকূলতাকে জয় করে শাকিল ২০২৫ সালে বাগডোব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি বড়াইগ্রাম সরকারি অনার্স কলেজে মানবিক বিভাগে এইচএসসি প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।
পরিবারের কাছে একটি পুরোনো ও অচল হুইলচেয়ার থাকলেও সেটি ব্যবহারযোগ্য নয়। প্রতিদিন কখনো বাবা, কখনো মা, কখনো প্রতিবেশী বা বন্ধুরা তাকে ঠেলে কলেজ কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে নিয়ে যান। কিন্তু বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার হওয়ায় নিয়মিত কাউকে পাওয়া যায় না। ফলে অনেক দিনই কলেজে যেতে না পেরে বাড়িতে বসেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।
শাকিল বলেন, “আমার দুটি হাত ভালো আছে। একটি ইলেকট্রিক্যাল হুইলচেয়ার পেলে আমি নিজেই কলেজে যাতায়াত করতে পারব। আমার স্বপ্ন লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আমি সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, মেধাবী ও সংগ্রামী এই শিক্ষার্থীর পাশে যদি সমাজের হৃদয়বান মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এগিয়ে আসে, তাহলে তার শিক্ষাজীবন রক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যতে তিনি একজন স্বাবলম্বী ও প্রতিষ্ঠিত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।
একটি ইলেকট্রিক্যাল হুইলচেয়ারই হতে পারে শাকিলের স্বপ্নপূরণের সবচেয়ে বড় সহায়। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম (বিকাশ):
শাকিল আহম্মেদ
📱 ০১৩০৫৭৭০৩৪৮

নাটোর (বড়াইগ্রাম) প্রতিনিধি 


















