ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে আরও এক দেশের প্রধানের পদত্যাগ

blank

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এবং সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পর পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন ভুচিচ। তিনি জানান, সোমবার সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

ভুচিচের পদত্যাগের সঙ্গে আসন্ন আগাম সংসদ নির্বাচনও সামনে এসেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর দেশটিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভুচিচ ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় তিনি প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন।

ভুচিচ বলেন, তার শাসনামলে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। এর আগে জুনের শেষ দিকেই তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

ভুচিচের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধীদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠে আসছে। সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নভি সাদে একটি রেলস্টেশনের পুনর্নির্মিত ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি, সরকারি ক্রয় ও নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আগাম সংসদ নির্বাচনের দাবি তোলে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি বড় আকার ধারণ করে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন বা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হন। তবে বিক্ষোভ থামেনি। পরে আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবিতে আগাম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিও যুক্ত হয়।

পদত্যাগের আগে ভুচিচ ৪৯ জনকে ক্ষমা করেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তিনি জানান। তার এই সিদ্ধান্তও পদত্যাগের দিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

আগামী সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের এসএনএসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে নির্বাচনে কারা জয়ী হবে, তা ভোটের ফল প্রকাশের আগে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

ভুচিচ ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

পররাষ্ট্রনীতিতে ভুচিচ একদিকে সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য বজায় রেখেছেন, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছেন।

ভুচিচের পদত্যাগের পর তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হবে।

blank

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার মাদক-চোরাচালানি পণ্য জব্দ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে আরও এক দেশের প্রধানের পদত্যাগ

প্রকাশের সময় : ১১ ঘন্টা আগে
blank

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এবং সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পর পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন ভুচিচ। তিনি জানান, সোমবার সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

ভুচিচের পদত্যাগের সঙ্গে আসন্ন আগাম সংসদ নির্বাচনও সামনে এসেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর দেশটিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভুচিচ ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় তিনি প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন।

ভুচিচ বলেন, তার শাসনামলে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। এর আগে জুনের শেষ দিকেই তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

ভুচিচের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধীদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠে আসছে। সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নভি সাদে একটি রেলস্টেশনের পুনর্নির্মিত ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি, সরকারি ক্রয় ও নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আগাম সংসদ নির্বাচনের দাবি তোলে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি বড় আকার ধারণ করে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন বা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হন। তবে বিক্ষোভ থামেনি। পরে আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবিতে আগাম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিও যুক্ত হয়।

পদত্যাগের আগে ভুচিচ ৪৯ জনকে ক্ষমা করেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তিনি জানান। তার এই সিদ্ধান্তও পদত্যাগের দিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

আগামী সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের এসএনএসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে নির্বাচনে কারা জয়ী হবে, তা ভোটের ফল প্রকাশের আগে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

ভুচিচ ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

পররাষ্ট্রনীতিতে ভুচিচ একদিকে সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য বজায় রেখেছেন, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছেন।

ভুচিচের পদত্যাগের পর তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হবে।