ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

blank

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক মুদি ব্যবসায়ীকে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), নাটোরের লালপুর উপজেলার বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার মুক্তি খাতুন (২৫)। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলাম (৩৫) বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ছিল এবং তাঁদের কাছে দোকানের বকেয়া টাকাও পাওনা ছিল তাঁর। এ ছাড়া মুক্তি খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতো।

এজাহারে বলা হয়েছে, মুক্তি খাতুনের কথায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলার ‘মমতাজ ভিলা’ ভবনের তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় যান জামিরুল। সেখানে বৃষ্টি খাতুন ও মুক্তি খাতুন তাঁকে বসিয়ে নাশতা খেতে দেন। কিছুক্ষণ পর সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলসহ আরও তিন-চারজন ওই বাসায় আসেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে জামিরুলের সঙ্গে মুক্তি খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তাঁর কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও স্ত্রীকে দেখানোর ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে জামিরুল তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুনকে ফোন করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

পরে জামিরুলের স্ত্রী ও তাঁর দুই বন্ধু চন্ডিপুর থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ঈশ্বরদীর ওই বাসায় পৌঁছান। এজাহারের দাবি অনুযায়ী, তাঁরা সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলের হাতে ওই টাকা তুলে দেন। টাকা পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে জামিরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাটি জানাজানি হলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে জামিরুল ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

blank

ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের সময় : ৩ মিনিট আগে
blank

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক মুদি ব্যবসায়ীকে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), নাটোরের লালপুর উপজেলার বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার মুক্তি খাতুন (২৫)। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলাম (৩৫) বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ছিল এবং তাঁদের কাছে দোকানের বকেয়া টাকাও পাওনা ছিল তাঁর। এ ছাড়া মুক্তি খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতো।

এজাহারে বলা হয়েছে, মুক্তি খাতুনের কথায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলার ‘মমতাজ ভিলা’ ভবনের তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় যান জামিরুল। সেখানে বৃষ্টি খাতুন ও মুক্তি খাতুন তাঁকে বসিয়ে নাশতা খেতে দেন। কিছুক্ষণ পর সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলসহ আরও তিন-চারজন ওই বাসায় আসেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে জামিরুলের সঙ্গে মুক্তি খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তাঁর কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও স্ত্রীকে দেখানোর ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে জামিরুল তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুনকে ফোন করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

পরে জামিরুলের স্ত্রী ও তাঁর দুই বন্ধু চন্ডিপুর থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ঈশ্বরদীর ওই বাসায় পৌঁছান। এজাহারের দাবি অনুযায়ী, তাঁরা সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলের হাতে ওই টাকা তুলে দেন। টাকা পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে জামিরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাটি জানাজানি হলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে জামিরুল ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।