শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী প্যারিসের বাইরেও মঁপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে সাত শতাধিক হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এদিন দেশজুড়ে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।
গত সপ্তাহে প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ-১কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, পরিস্থিতি দাঙ্গা ও নগর সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরার্ড দারমানিন বলেন, পরিস্থিতি এখন আর শুধু হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, দেশজুড়ে মোট ৩ হাজার ৭০০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩৫টি চলমান সহিংস বিক্ষোভের কারণে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভের সময় পুলিশ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করেছে। প্রকাশিত ছবিতে পেট্রলবোমা, কুঠার ও আতশবাজি দেখা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএম টিভিকে বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বেলফোর শহরে শুক্রবার বিক্ষোভ চলাকালে এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হত্যাচেষ্টার সন্দেহে এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিবিসি ঘটনাটির দুটি ভিডিও ফুটেজ যাচাই করেছে। ফুটেজে দেখা যায়, একদল তরুণ ওই পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া করছেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে মাথায় বারবার ঘুষি ও লাথি মারা হয়।
ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে মন্ত্রণালয়ের অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
প্যারিসের উপকণ্ঠ পান্তিন এলাকায় পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারার পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্ট্রাসবুর্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। এ ছাড়া রেন ও প্যারিসে আবর্জনার ঝুড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছর বয়সী লোলা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, শুক্রবার সকালে তাদের স্কুল বন্ধ ছিল। পুলিশের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও দাবি করে সে।
লোলার ভাষ্য, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। শিক্ষা খাতের সংকট ও বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ক্রমেই সহিংস রূপ নেওয়ায় দেশজুড়ে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 













