নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। তবে জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ইংলিশ শিবির। দলের প্রধান কোচ থমাস টুখেলের মন্তব্যে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানিয়েছেন মিডফিল্ড তারকা জুড বেলিংহাম।
কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে টুখেল ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, ‘শেষ চারে উঠতে পেরে আমরা অবশ্যই আনন্দিত। কিন্তু আমাদের খেলার মানে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। ফলাফল ভালো হলেও পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো ছিল না।’
ইংল্যান্ডের খেলাকে এলোমেলো ও ভুলে ভরা বলেও মন্তব্য করেন এই জার্মান কোচ। তার মতে, দলটি ভাগ্যের সহায়তায় সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
তবে টুখেলের এমন মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন জুড বেলিংহাম। রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডারের মতে, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া এবং নরওয়ের শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না।
সাংবাদিকদের বেলিংহাম বলেন, ‘হয়তো তিনি জানেন না, আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা কিংবা আলেকজান্ডার সরলথদের বিপক্ষে ওই পরিস্থিতিতে খেলাটা কতটা কঠিন। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ নয়। তিনি যা ইচ্ছা বলতে পারেন।’
টুখেল ও বেলিংহামের মধ্যে মতবিরোধ অবশ্য এই প্রথম নয়। প্রায় এক বছর আগেও বেলিংহামের মাঠের আচরণ নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন টুখেল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, বেলিংহামের মেজাজি আচরণের কিছু দিক দর্শকদের কাছে ‘বিরক্তিকর’ মনে হতে পারে। পরে অবশ্য সেই মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে টুখেল জানান, শব্দটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছিলেন এবং এতে খেলোয়াড়টির প্রতি কোনো নেতিবাচক ইঙ্গিত ছিল না।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেও বেলিংহামের একাদশে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ইংল্যান্ড কোচ। তিনি বলেছিলেন, দলের কোনো তারকারই মূল একাদশে জায়গা নিশ্চিত নয়।
তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। নরওয়ে ও মেক্সিকোর বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচেই জোড়া গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বেলিংহাম।
যদিও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন টুখেল, তবু বেলিংহামের প্রশংসা করতে ভোলেননি তিনি। ইংল্যান্ড কোচ বলেন, ‘ওকে নিয়ে আর কিছু বলার নেই। প্রতিটি ম্যাচেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে। সে সত্যিই বিশ্বমানের একজন ফুটবলার।’
আগামী বুধবার আটলান্টায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। সেই সেমিফাইনালে টুখেল ও বেলিংহামের এই মতবিরোধ দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন ডেস্ক 



















